গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বর এলাকার একটি কওমি মাদ্রাসার ছয় আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, এক ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কলমেশ্বর এলাকার দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগের সাত বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীকে গত ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর রাতের বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলামের (২৩) বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিবার জানতে পারে, একই শিক্ষক মাদ্রাসার আরও অন্তত পাঁচ শিশুর সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজান (৩৮) ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪২) আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী শিশুর মা গাছা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন—মাদ্রাসার শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), পরিচালক মোহাম্মদ মিজান (৩৮) এবং মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪২)। তাদের মধ্যে শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম ও মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। শিশুদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ এবং এ ধরনের ঘটনা গোপন করার চেষ্টার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।