সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যের জন্য শুধু ভালোবাসা, মানসিক মিল কিংবা পারস্পরিক বোঝাপড়াই যথেষ্ট নয়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত যোগাযোগ, আবেগের নিরাপত্তা এবং একে অপরকে নতুন করে জানার আগ্রহ।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দম্পতিদের মধ্যে যোগাযোগের উন্নতি ও আবেগগত নিরাপত্তা বাড়লে সম্পর্কের সন্তুষ্টিও বাড়তে পারে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফ্যামিলি প্রসেসে প্রকাশিত গবেষণার তথ্যের পাশাপাশি সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরাও দাম্পত্যে পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের যৌন ও সম্পর্কবিষয়ক থেরাপিস্ট ট্যামি নেলসনের মতে, সময়ের সঙ্গে দম্পতিরা একে অপরকে পুরোপুরি চেনেন বলে মনে করতে পারেন। তখন সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তার মতে, সম্পর্কের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের চাহিদা ও মানসিক অবস্থাও বদলায়।
নেলসন দাম্পত্যের বন্ধন দুর্বল করতে পারে এমন পাঁচটি সাধারণ ভুল চিহ্নিত করেছেন।
সঙ্গীকে পুরোপুরি চেনা হয়ে গেছে ভাবা
দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার কারণে অনেকেই মনে করেন, সঙ্গীর পছন্দ, অপছন্দ ও চাহিদা তাদের জানা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের চিন্তা, ইচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বদলাতে পারে।
তাই সঙ্গীকে নতুন করে জানার চেষ্টা করা, তার ভাবনা শোনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা জরুরি। নেলসনের মতে, একে অপরের প্রতি কৌতূহল হারালে সম্পর্কের আকর্ষণও কমতে পারে।
কঠিন আলোচনা এড়িয়ে চলা
অর্থ, যৌনজীবন কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে অস্বস্তি হতে পারে। ঝগড়া এড়াতে অনেক দম্পতি এসব বিষয় চেপে রাখেন।
কিন্তু সমস্যার বিষয়ে কথা না বললে দূরত্ব বাড়তে পারে। তাই কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে সংকোচ হয়, তা চিহ্নিত করে শান্তভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।
যৌনজীবনের নেতিবাচক দিকেই মনোযোগ দেওয়া
সঙ্গী কী করছেন না, কিংবা সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা কেন কম- এসব অভিযোগ বারবার করলে বিরোধ বাড়তে পারে।
বরং কোন বিষয়গুলো ভালো লাগছে, কোন অভিজ্ঞতা আনন্দ দিচ্ছে এবং কী আরও বেশি প্রত্যাশা করেন, তা ইতিবাচকভাবে জানানো উচিত। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়তে পারে।
দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যেই আটকে থাকা
সংসারের খরচ, কাজ ও অন্যান্য দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক দম্পতি একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ হারান।
নেলসনের মতে, সংসারের নিয়মিত দায়িত্ব পালন যেমন জরুরি, তেমনি নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন, একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া কিংবা নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে সম্পর্কেও বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।
ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ না করা
সঙ্গীর প্রতি ভালো লাগা বা মমতা অনুভব করলেও অনেকে তা মুখে বলেন না। অথচ ছোট্ট প্রশংসা, আন্তরিক কথা কিংবা সঙ্গীর পাশে থাকার অনুভূতি প্রকাশ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।
নেলসনের মতে, সুখী দাম্পত্যের জন্য একে অপরের প্রতি মনোযোগ, কৌতূহল এবং নতুন করে জানার আগ্রহ ধরে রাখা জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কেও ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ইতিবাচক অনুভূতি প্রকাশের বিকল্প নেই।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
