পূর্ব ঘোষণা মতোই সোমবার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সেই মিছিলে গণতন্ত্র এবং সংবিধানে বিশ্বাসী প্রত্যেকে শামিল হবে বলে জানালেন রাহুল গাঁধী। রাহুলের কথায়, “কাল সারা ভারত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলে হাঁটবে।”
রবিবার সন্ধ্যায় হাতে সংবিধান নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন রাহুল। সেখানে তিনি বলেন, “কাল আমরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে হেঁটে যাব। দল, লিঙ্গ, জাত, সম্প্রদায়, রাজ্যের ভেদ সরিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাঁটব। যুব সম্প্রদায়, সব বিরোধী দল, বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, যারা গণতন্ত্র এবং ভারতের সংবিধানের উপর বিশ্বাস রাখে, তারা আমাদের সঙ্গে হাঁটবে।”
রাহুল জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করে গিয়ে তাঁরা দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেবেন। সেখানে তিনটি দাবির কথা জানানো হবে। এক, ‘ভোটচুরি’ বন্ধ করা। দুই, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং তিন, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ।
রবিবার ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভাগবতকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “এঁরা ভারতের কণ্ঠকে রুদ্ধ করতে পারবেন না।”
শনিবার সিজেপি-র শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশি ‘দমনপীড়নের’ প্রতিবাদও করেন রাহুল। সমাজমাধ্যমে লোকসভার বিরোধী দলনেতা লেখেন, “গতকাল দেশের যুব সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য দিল্লি এসেছিল। তারা হৃদয়ে ভালবাসা নিয়েই এসেছিল, কোনও হিংসা বা ঘৃণা নিয়ে আসেনি। পুলিশ এবং বিজেপির গুন্ডারা তাদের মারধর করে। এটা সেই ভারতবর্ষ নয়, যেটা আমরা চাই।”
রবিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবেন তাঁরা। ‘ইন্ডিয়া’-র তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেবে বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ভবনে যে প্রতিনিধিদল গিয়েছিল, সোমবার সেই একই দল থাকবে। অর্থাৎ, রাহুল ছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির এই প্রতিনিধিদলে থাকার কথা।
