পুজোর রাতে ঘুমের কথা ভুলে ঠাকুর দেখা, এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ছুটে বেড়ানো, সঙ্গে দেদার আড্ডা আর মোবাইলে ছবি তোলা। আনন্দে মেতে থাকতে গিয়ে কখন যে রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যায়, খেয়ালই থাকে না।
কিন্তু পরদিন সকালে আয়নায় মুখ দেখেই মন খারাপ! চোখের তলায় কালচে দাগ, ফোলা ভাব, মুখেও ক্লান্তির ছাপ। পুজোর ক’দিন রাত জাগার মাশুল কি এভাবেই গুনতে হবে? শুধু ঘুমের অভাব, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কারণও?
রাত জাগলেই চোখের তলায় কালি?
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের চারপাশে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। ঘুম কম হলে চোখের নীচে ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে, যার ফলে ওই অংশটি আরও কালচে দেখায়। তবে রাত জাগলেই যে সবার চোখের তলায় কালি পড়বে, এমন নয়। বংশগত প্রবণতা, বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের পরিবর্তন, অতিরিক্ত পিগমেন্টেশন এবং অ্যালার্জিও এর কারণ হতে পারে। বারবার চোখ ঘষলেও চোখের নীচের ত্বক কালচে হয়ে যেতে পারে।
পুজোয় কীভাবে সামলাবেন?
পুজোর আনন্দে রাত জাগা পুরোপুরি এড়ানো কঠিন। তবে পরপর কয়েক দিন ঘুমের সময় কমিয়ে ফেললে শরীরের ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই ঠাকুর দেখার পরিকল্পনার পাশাপাশি ঘুমের সময়টাও মাথায় রাখুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। সম্ভব হলে দিনের ব্যস্ততার মধ্যে বিশ্রাম নিন, তবে দিনের ঘুম যেন রাতের ঘুমের বিকল্প না হয়ে যায়।
ঠাকুর দেখতে বেরনোর আগে এবং ফিরে এসে পর্যাপ্ত জল পান করুন। দীর্ঘক্ষণ রোদে ঘোরাঘুরি করলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। চোখের চারপাশের ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন। চোখের নীচে ফোলা ভাব দেখা দিলে পরিষ্কার ঠান্ডা কাপড় দিয়ে কয়েক মিনিট আলতো করে সেঁক দিন। বরফ সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না।

মেকআপে ঢাকবেন, নাকি যত্ন নেবেন?
চোখের তলার কালি ঢাকতে কনসিলার ব্যবহার করতেই পারেন। তবে মেকআপ তোলার সময় চোখের চারপাশে জোরে ঘষাঘষি করবেন না। চোখের নীচের ত্বক সংবেদনশীল, তাই এই অংশে লেবুর রস বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে এমন ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়। শুধু চোখের তলার কালি ঢাকতে গিয়ে অজানা ক্রিম বা প্রসাধনী ব্যবহার করাও ঠিক নয়।
মনে রাখবেন, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও চোখের তলার কালচে দাগ থেকে যেতে পারে। কারণ এটি সব সময় ঘুমের অভাবের জন্য হয় না। হঠাৎ করে কালচে দাগ দেখা দিলে, এক চোখের চারপাশে বেশি ফোলা বা ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পুজোয় ঠাকুর দেখার আনন্দ থাকুক, কিন্তু ঘুমের সঙ্গে আপস করে নয়। কয়েক রাতের অনিয়মে চোখের নীচে ক্লান্তির ছাপ পড়তে পারে। তাই উৎসবের ফাঁকেও শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভুলবেন না।
