ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মানহানিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
কর্মসূচি থেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ, বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ প্রত্যাহার এবং ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. শাহজাহান, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরুন নেছা এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া ও তিথি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ খান বিদ্যালয়ে যোগদানের পর বিভিন্ন অনিয়ম দূর করতে উদ্যোগ নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন শিক্ষক তাঁকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে বেনামে মিথ্যা অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দূর করে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা কাম্য নয়। প্রধান শিক্ষককে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা।
প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খান বলেন, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তিনি নবম ও দশম শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। আগে গাইড বই অনুসরণ করে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হলেও এখন বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হচ্ছে। আগে নিয়মিত ক্লাস হতো না, এখন ক্লাস হচ্ছে এবং ছাত্রীদের উপস্থিতিও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, যোগদানের আগে বিদ্যালয়ে স্বজনপ্রীতিসহ নানা সমস্যা ছিল। শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে সেসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এসব পরিবর্তনের কারণে কয়েকজন শিক্ষক অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে তাঁর ধারণা। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এসব করেছেন, তাঁদের দায় স্বীকার করা উচিত। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তা চিহ্নিত করতে চান তিনি। বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে রেখে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে নজরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবকের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং লিখিত অভিযোগে তিনি স্বাক্ষর করেননি। তাঁর মেয়ের সঙ্গেও প্রধান শিক্ষক কোনো খারাপ আচরণ করেননি বলে জানান তিনি। বরং শহিদুল্লাহ খান যোগদানের পর বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পড়াশোনার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হোক, তাঁরা তা চান না। বিদ্যালয়ে যেন কোনো ধরনের গ্রুপিং না থাকে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামীকাল থেকে পরিস্থিতির অবসান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ অক্টোবর রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য যোগদান করা প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও অশোভন মন্তব্য করার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগটি বেনামে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর প্রতিবাদে এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা অভিযোগ প্রত্যাহার, অপপ্রচার বন্ধ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এমএস/
