ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাট, পেঁয়াজ, রসুন ও চালভর্তি সাতটি গুদামসহ মোট ৯টি ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফলিয়া বাজারের পাট ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মাসুদ মন্ডলের গুদাম থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত। গুদামে বিপুল পরিমাণ পাট ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাশেই অবস্থিত বারাসিয়া নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় আড়াই ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তার আগেই গুদামে থাকা সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত গুদাম ও দোকান মালিকদের মধ্যে রয়েছেন, হাবিবুর রহমান হাবি মন্ডল (৪৫), ফিরোজ মেম্বার (৫৫), মাসুদ মন্ডল (৩৫), মিল্টন মোল্যা (৩০), জুয়েল মন্ডল (৩০), ইমরুল মোল্যা (৩৫) ও কালাম মোল্যা।
স্থানীয়দের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি গুদামে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে এসব পণ্যের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফিরোজ মেম্বার আক্ষেপ করে বলেন, ধারদেনা করে পাটের ব্যবসা শুরু করেছিলাম। আগুন আমার সব শেষ করে দিয়েছে। এখন ঋণ শোধ করব কীভাবে আর ব্যবসায়ী-বা পুনরায় কীভাবে দাঁড়াব, বুঝতে পারছি না।
অপর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মাসুদ মন্ডল জানান, নিজের জমিজমা বিক্রি ও ঋণ করে পাট, পেঁয়াজ ও রসুন কিনে গুদামে রেখেছিলেন, যার পুরোটাই আগুনে পুড়ে গেছে। সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. কিসলু খালাসী বলেন, হঠাৎ বাজারে মানুষের ছোটাছুটি ও চিৎকার শুনে দোকান থেকে বের হয়ে দেখি মাসুদ মন্ডলের পাটের গুদাম থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুন বের হচ্ছে। আমরা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই, কিন্তু পাটের কারণে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
আলফাডাঙ্গা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ওবায়দুর রহমান ও বোয়ালমারী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রয়েল আহমেদ জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বারাসিয়া নদীর পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুনে মোট নয়টি গুদাম ও দোকানের মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।
