রংপুরে অটোরিকশা চুরি করে পালানোর অভিযোগে গণপিটুনিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার তিস্তা বড় সেচ ক্যানেলের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা (৪২) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (৩২)। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান সোহেলের বাড়ি থেকে ভোরে একটি অটোরিকশা চুরির চেষ্টা করা হয়। অটোরিকশার ঘরে শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান, চোর তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালাচ্ছে। এ সময় বাড়ির পাশের মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছিলেন। সোহেলের চিৎকার শুনে কয়েকজন মুসল্লি মসজিদ থেকে বের হয়ে অটোরিকশাটির পিছু নেন।
তবে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে পারেননি। পরে মসজিদের মাইকে অটোরিকশা চুরির বিষয়টি ঘোষণা করা হলে স্থানীয় লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে অটোরিকশাটির পিছু নেন। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকায় অটোরিকশাটি রেখে ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন রেজাউল ও সাদিকুল। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
অটোরিকশার মালিক সিদ্দিকুর রহমান সোহেল জানান, মধ্যরাতে বাথরুমে যাওয়ার সময়ও তিনি অটোরিকশাটি দেখেছেন। পরে তাঁর মেয়ে কান্না শুরু করলে তিনি তাকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন। এ সময় অটোরিকশার ঘরে শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী তাঁকে জানান, চোর অটোরিকশাটি নিয়ে যাচ্ছে।
সোহেল বলেন, বারান্দা দিয়ে বের হয়ে অটোরিকশাটি ধরে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় চোর তাঁকেসহ অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তিনি অটোরিকশাটি ছেড়ে চিৎকার করলে মসজিদের মুসল্লিরা বের হয়ে চোরদের ধাওয়া দেন। এ ঘটনায় মাটিতে পড়ে তাঁর হাঁটুর চামড়া উঠে যায়। পরে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ক্যানেলের পাশে গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যুর খবর পান তিনি।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, রেজাউল আগে চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। তাঁর দুটি মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তিনি ছোট মেয়ে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে বসবাস করতেন।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, সাদিকুল আগে মাদকসেবন করতেন। তাঁকে ভালো পথে ফেরাতে তাঁর বাবা অনেক চেষ্টা করেছেন। সাদিকুলের ছয় ও চার বছর বয়সী দুটি ছেলে রয়েছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত রেজাউলের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া থানায় ছয়টি, পরশুরাম থানায় একটি, তারাগঞ্জ থানায় একটি এবং হাজীরহাট থানায় একটি মামলা রয়েছে। সব মিলিয়ে চার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
