মাত্র আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত ছবিটি বক্স অফিসে আয় করেছে ১১০ কোটি টাকা। অথচ একসময় ছবিটি মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রযোজকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে নির্মাতাদের। কেউ বিনিয়োগে রাজি হননি, আবার মুক্তির দিনও শেষ মুহূর্তে কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে বাতিল হয়েছিল প্রদর্শনী। সেই ছবিই এখন কন্নড় চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক চমক। কন্নড় সিনেমা ‘প্রেমাদা উরাল্লি’র সাফল্যের গল্পটা যেন সিনেমারই গল্প। নির্মাতাদের দাবি, ছবিটি ফিরিয়ে দেওয়া প্রযোজকরাই এখন পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী। ছবির সাফল্য কেবল বক্স অফিসের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। পাঁচ বছর কাজের সুযোগ না পাওয়া এক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী পরিচালকের প্রত্যাবর্তন, অর্থসংকটে প্রায় থমকে যাওয়া একটি সিনেমার মুক্তি, আর প্রচারের জন্য নির্মাতাদের অভিনব উদ্যোগ- সব মিলিয়ে ছবিটি এখন কন্নড় চলচ্চিত্রের আলোচিত ঘটনা। ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ‘প্রেমাদা উরাল্লি’। প্রথম দিন ছবিটি মাত্র ৬০টি প্রদর্শনী থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় করে। শুরুটা ছিল হতাশাজনক। কিন্তু দ্বিতীয় দিন থেকেই দর্শকের আগ্রহ বাড়তে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা এবং দর্শকদের মুখে মুখে ছবিটির প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ায় বাড়তে থাকে প্রদর্শনীর সংখ্যা। বক্স অফিসের হিসাব নিয়ে কাজ করা স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে ছবিটির দৈনিক আয় কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছে যায়। তৃতীয় সপ্তাহেও সেই গতি বজায় ছিল। সিনেমা এক্সপ্রেস জানিয়েছিল, মুক্তির ১৩ দিনের মধ্যে ছবিটির আয় ৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে তা ১১০ কোটি টাকার বৈশ্বিক আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করে। প্রেমাদা উরাল্লি মূলত গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত প্রেম ও পারিবারিক সম্পর্কের গল্প। ছবিতে নাগান্নার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রঙ্গায়ন রঘু। ছেলেকে নিয়ে গ্রামে তার সংসার। ছেলের জন্য শিক্ষিত পুত্রবধূ খুঁজতে গিয়ে পরিবারে তৈরি হয় নানা জটিলতা। ছেলের চরিত্রে আছেন শ্রী রাম। এ ছাড়া অভিনয় করেছেন রামিকা শিবু ও তাপস্বিনী পুনাচ্চা।
