দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ মামলার আসামী সাহেব আলীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুইজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। একজন আসলাম হোসেন ও অপরজন রনি হোসেন। দুইজনের বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকাতে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পরিবারের লোকজন দুইজনকে শনাক্ত করেন।
সোমবার ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের বউ বাজার সংলগ্নের দশতলা ভবনের সামনে আলোচিত ডাকাত সাহেব আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সিসিটিভির ফুটেজ দেখা যায় রনি ধাওয়া করে সাহেব আলীকে। তখন সাহেব আলী নিজের জীবন বাঁচাতে সাহেব আলী একটি নালার পানি ডুবে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। রনি তখন হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে এক মিনিটের ব্যবধানে কয়েক তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এর পরে ছুটে আসেন আসলাম। তিনিও সঙ্গে থাকা পিস্তল নিয়ে এক রাউন্ড গুলি করেন। দুইজন পরে ইট দিয়ে সাহেব আলীর উপর ছুড়ে মারেন। লোকজন বাড়তে থাকলে দুইজন বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে চলে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রনি ও আসলাম দুইজনই ছিলেন সাহেব আলীর সহযোগী। রনি হোসেনের পিতার নাম বিল্লাল হোসেন এবং মো. আসলাম হোসেনের পিতার নাম মো. মোখলেছুর রহমান। তারা উভয়ে আটি ওয়াপদা কলোনীতে বাস করতেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
সাহেব আলী ও তার ভাই রবিউলের সহযোগী হাফিজের শাশুড়ি রাজিয়া জানান, তার মেয়ের জামাই হাফিজ ও রবিউল বিকেলে ওয়াপদার বালুর মাঠে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় রনি ও আসলাম সেখানে এসে প্রথমে রবিউলকে গুলি করেন। গুলিটি রবিউলের হাতে লাগে। এরপর হাফিজকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
রাজিয়া বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে হাফিজকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। এ সময় রবিউল তার ভাই সাহেব আলীকে ফোন করে। ফোন পেয়ে সাহেব আলী ও তার ছেলে সজিব খালি গায়ে দৌড়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় সাহেব আলী রনিকে মারতে একটি ইট হাতে নেওয়ার মুহূর্তে রনি মাথায় গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে সাহেব আলী সঙ্গে সঙ্গে পাশের খালে পড়ে যান।’
রাজিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর রনি আবারও গুলি করার চেষ্টা করেন। প্রথমবার গুলি না হওয়ায় অস্ত্রটি পুনরায় লোড করে আবার গুলি করেন তিনি। পরে রনি ও আসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
সাহেব আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তথ্য অনুযায়ী, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি, নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও নাশকতার তিনটি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাঁচটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ছদ্মবেশে ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে।
