নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সোমবার সকাল থেকে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে সকাল ১১টায় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন করে হামলায় জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবিলম্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান তাঁরা।
এর আগে রোববার দুপুরে হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন নিতে গিয়ে সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল এক অ্যাম্বুলেন্সচালকের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাঈম ইসলাম (২৫) নামের ওই চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে বেসরকারি মালিকানাধীন একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক নাঈম আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন নিতে হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে যান। প্রতিবেদন দিতে দেরি হওয়ায় তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল তাঁকে বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিকিৎসকের চিৎকার শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে গিয়ে নাঈমকে আটক করেন। পরে তাঁকে নীলফামারী সদর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে তাঁরা হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকরা প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে সেবা দিয়ে থাকেন। রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে নির্বিঘ্নে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
তাঁরা বলেন, একজন চিকিৎসকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশকেও ব্যাহত করে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে হাসপাতালের চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে শুধু ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, ‘হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে শুধু ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।’
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে রোববার এক যুবককে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।