চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম গত শনিবার ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়ে, পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর স্ত্রী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা। একমাত্র ছেলে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে কর্মরত। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে নারায়ণগঞ্জে যুগ্ম জেলা জজ, মেজ মেয়ে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার এবং ছোট মেয়ে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মরত আছেন। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৭-৬৮ সালে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে রাশিয়া-চীন আদর্শিক বিভক্তির পর তিনি চীনপন্থী পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব দেন এবং পরে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে আসেন। তিনি ছিলেন শ্রমিক আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। দক্ষিণ চট্টগ্রামে তিনি কমরেড শহীদ আবুল হাসান ও ক্যাপ্টেন করিমের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন কমরেড দেবেন সিকদার, আবুল বশর, আবদুল্লাহ আল নোমান, শহীদ আবুল হাসান ও ক্যাপ্টেন করিম।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে তিনি অন্যান্য বামপন্থী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ইমাম গাজ্জালী কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর আমৃত্যু চট্টগ্রাম জেলা জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
রোববার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিং প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ আসর বোয়ালখালী উপজেলার সরোয়াতলীতে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসন ও বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যৌথ নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
The post বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিমের দাফন সম্পন্ন appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
