লালন মাজারের বিস্ফোরকটি ‘টাইম বোমা’
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বাউল ফকির লালন শাহের মাজারের প্রবেশপথের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া পেট্রোলভর্তি বোতল, ধাতব ক্যানিস্টার ও তারযুক্ত ডিভাইসকে ‘সময় নিয়ন্ত্রিত বোমা’ বলে জানিয়েছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত জুলাইয়ে ঢাকার মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া বোমাতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।
জার্নাল ডেস্ককুষ্টিয়ায় বাউল ফকির লালন শাহের মাজারের প্রবেশপথের পাশ থেকে পেট্রোলভর্তি বোতল, ধাতব পাইপসহ যেসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো একটি ‘সময় নিয়ন্ত্রিত বোমা’র অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকার মতিঝিলে মেট্রো স্টেশনের নিচে গত জুলাইয়ে যে বোমাটি পাওয়া গিয়েছিল, সেটিতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ভাষ্য পুলিশ কর্মকর্তাদের।
রোববার রাত ১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মাজারের প্রবেশপথের ডান পাশের একটি নারকেলগাছের কাছ থেকে ডিভাইসটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন।
পুলিশ বলছে, একটি সন্দেহজনক ব্যাগের উপস্থিতির খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় মাজারে আগত সাধুদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের চার সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পরিদর্শক মোদাচ্ছের কায়সারের নেতৃত্বে দলটি তল্লাশি চালিয়ে দুটি ছোট বোতল ভরা পেট্রোল, আধা ইঞ্চি চওড়া ও চার ইঞ্চি লম্বা দুটি ধাতব ক্যানিস্টার এবং বিদ্যুতের তার যুক্ত একটি ডিভাইস উদ্ধার করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, “ওটা একটা টাইম ইনিশিয়েটেড বোম্ব। ওখানে একটা টাইমার ও ব্যাটারি ছিল।
“আর স্মোক বোম্ব হিসেবে পার্টিতে ব্যবহৃত সৌখিন বিস্ফোরকের অ্যালুমিনিয়াম ক্যানিস্টারের ভেতরে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে সেটিকেই বোমা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে দুই বোতল পেট্রোলও রেখে দেওয়া হয়েছিল যাতে বিস্ফোরণে সেখানে একটা বড় আগুন তৈরি হয়।”
ওই কর্মকর্তা বলছেন, “আমরা ঢাকার মেট্রো স্টেশনে ছাতার মধ্যে যেরকম বোমা পেয়েছিলাম, প্রযুক্তিটা একই রকম। তবে ঢাকার মেট্রো স্টেশনের বোমার শেল (খোল) হিসেবে জিআই পাইপ ব্যবহার করা হয়েছিল, এই পাইপ বিস্ফোরিত হলে অনেক শক্তি নিয়ে স্প্লিন্টার হিসেবে চারদিকে আঘাত করে।
“আর এখানে খেলনা স্মোক বোমের অ্যালুমিনিয়াম ক্যানিস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এটা (কুষ্টিয়ার বোমা) আনাড়ি হাতের কাজ হতে পারে, তবে প্রযুক্তিটা ছড়িয়ে পড়ছে—যা আমাদের সকলকে ভীষণ ঝুঁকিতে ফেলছে।”
বোমাটি কারা সেখানে ফেলে রেখে গেছে, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো ধারণা দেয়নি।
এর আগে গত ২৬ জুলাই সনাতনধর্মীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর ‘পাইপ বোমা’ ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে সেটি ঘিরে রাখে এবং পরবর্তীতে তা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিস্ক্রিয় করে।
তখন পুলিশ জানিয়েছিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিদল নব্য জেএমবির সদস্য নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ ও তার অনুসারীরা মিলে ওই বোমা তৈরি করে মেট্রো স্টেশনের নিচে পেতে রেখেছিল। পুলিশ সাভার থেকে বিপুল সরঞ্জামসহ মামুনের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তারও করে। কিন্তু মামুনকে এখন পর্যন্ত ধরা যায়নি।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
