চৌদ্দগ্রামে মাইক্রোবাসসহ ৩৯ লাখ টাকার কসমেটিকস জব্দ
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ভারত সীমান্তবর্তী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাসসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস ও বিভিন্ন প্রকার জর্দা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
জব্দ করা মালামালের সিজারমূল্য ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯০ টাকা।
গতকাল বুধবার রাতে ১০ বিজিবি কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অধীন আমানগন্ডা বিওপির বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বিজিবির পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বদরপুর ব্রিজ এলাকায় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালায় বিজিবি। এসব বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মালামাল জব্দ এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস আটক করা হয়।
জব্দ করা মালামাল বিধি অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিজিবি বলছে, 'সীমান্ত এলাকায় দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।'
জহির শান্ত/অলি/
আরও পড়ুন
ঝালকাঠিতে প্রধান শিক্ষকের মানহানির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মানহানিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ, বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ প্রত্যাহার এবং ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. শাহজাহান, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরুন নেছা এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া ও তিথি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খান প্রায় এক মাস আগে বিদ্যালয়ে যোগদানের পর বিভিন্ন অনিয়ম দূর করা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন শিক্ষক তাকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বেনামে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দূর করে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধান শিক্ষককে হেয়-প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খান বলেন, যোগদানের পর থেকে তিনি নবম ও দশম শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। আগে গাইড বই অনুসরণ করে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হলেও এখন বিদ্যালয়ের ভেতরেই (ইন-হাউস) প্রশ্নপত্র তৈরি করা হচ্ছে। আগে নিয়মিত ক্লাস হতো না, এখন নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে এবং ছাত্রীদের উপস্থিতিও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, যোগদানের আগে বিদ্যালয়ে স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন সমস্যা ছিল। শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে সেসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তার ধারণা, এসব পরিবর্তনের কারণে কয়েকজন শিক্ষক অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এসব করেছে, আমি চাই তারা তাদের দায় স্বীকার করুক। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে চাই। বিদ্যালয়টিকে একটি ফুলের বাগানের মতো সুন্দর ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে রেখে যেতে চাই।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হোক, তা তারা চান না। বিদ্যালয়ে যেন কোনো ধরনের গ্রুপিং না থাকে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামীকাল থেকে এ পরিস্থিতির অবসান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য যোগদান করা প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও অশোভন মন্তব্য করার অভিযোগ এনে গত ১৩ অক্টোবর বেনামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। তবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি।
নেয়ামুল হিরন/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
ঈশ্বরগঞ্জে আনসার-ভিডিপির মাদকবিরোধী প্রচারণা
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়েছে উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আনসার ও শহর প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওয়ার্ড লিডার ফয়সল আহমেদ, পিভিএমএসের আয়োজনে এ প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মজিবুর রহমান।
মাদকবিরোধী প্রচারাভিযানটি উপজেলা পরিষদ থেকে বের হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোড় হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আনসার-ভিডিপির এ ধরনের প্রচারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন আয়োজক ফয়সল আহমেদ, পিভিএমএস। প্রচারণার আনসার ও টিডিপির শতাধিক সদস্য অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন, ‘মাদকবিরোধী এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। মাদকের নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে আনসার ও ভিডিপিকেও এগিয়ে আসতে হবে।’
এ সময় তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ফয়সল আহমেদ/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
দাউদকান্দিতে রঙতুলির আঁচড়ে সেজে উঠছে দেবী দুর্গা, প্রস্তুত ৪৬ মণ্ডপ
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->আর মাত্র একদিনের অপেক্ষা, তারপরই শুরু হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ৪৬ টি মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা আর প্রস্তুতির ব্যস্ততা।
প্রতিটি মণ্ডপে এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ, কোথাও রঙতুলির শেষ ছোঁয়ায় রাঙানো হচ্ছে প্রতিমা, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেল সাজানোর শেষ মুহূর্তের কাজ। একদিকে শিল্পীরা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা নির্মাণে, অন্যদিকে আয়োজকরা তৎপর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী দুর্গাকে বরণ করার আনুষ্ঠানিকতা। পরবর্তী দিনগুলোতে একে একে অনুষ্ঠিত হবে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও মহা-নবমীর পূজা। আর বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে এই মহা উৎসব। আনন্দ, ভক্তি আর মিলনমেলার আবহে বাঙালি হিন্দু সমাজে দুর্গাপূজা ইতোমধ্যেই বয়ে এনেছে উৎসবের রঙিন বার্তা।
উপজেলার গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ, রায়পুর, শ্রী শ্রী মা মনসা বাড়ি, গোপীনাথ জিউর আখড়া (কেন্দ্রীয় মন্দির)রঞ্জিত ও দিলিপ পাল বাড়িসহ বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। চলছে রঙতুলির শেষ আঁচড়।
পৌর সদরের সাহাপাড়া গ্রামের রঞ্জিত পাল ও প্রতিমা শিল্পী দিলিপ পাল বলেন, আর মাত্র এক দিন বাকি পূজার, আমরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। প্রতিমাগুলো নতুন করে রং ও তুলির আঁচড় দিয়ে সাজিয়ে তুলছি। পূর্বে সম্পূর্ণ প্রতিমা তৈরি করা থেকে সাজানো পর্যন্ত খরচ হত ৭০/৮০ হাজার টাকা। এখন সংশ্লিষ্ঠ মালামালের দাম বৃদ্ধি,শিল্পীদের পারিশ্রমিক বাড়ার কারণে খরচ প্রায় দিগুণ। তবুও এই কাজ আমাদের করতেই হবে কারণ এটা আমাদের ধর্মীয় রীতিনীতি। শেষ মুহূর্তে দেবীকে পড়ানো হবে পোশাক-পরিচ্ছদসহ অন্যান্য আল্পনা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট দাউদকান্দি উপজেলার আহবায়ক মধু সরকার বলেন, এবার উপজেলায় ৪৬ টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। পূজায় আমাদের কোন সমস্যা হবে না। আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। মাকে বরণ করে নিতে আমরা প্রস্তুত।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, দাউদকান্দি উপজেলায় এবার ৪৬ টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কোনো মহল যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পুলিশ সদস্য সহ আনসার বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।
লিটন সরকার/অন্তরা/
আরও পড়ুন
নড়াইলে ৫৪৩ মন্ডপে শেষ মুহুর্তে ব্যস্ত শিল্পীরা
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ এএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নড়াইলের তিনটি উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা শুরুর শেষ মুহুর্তে প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।
রংতুলির শেষ আঁচড়ে নান্দনিক ভাবে ফুটে ওঠেছে প্রতিমা। দিনরাত পালাক্রমে চলছে কাজ। দম ফেলার ফুসরত নেই শিল্পীদের। বেশির ভাগ পূজামন্ডপের সাজ সজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নড়াইল শহরের বিভিন্ন মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও প্রতিমার গায়ে রং দেওয়া হচ্ছে। কোথাও চলছে অলংকারের কাজ। শিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা। প্রতিটি প্রতিমাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন শিল্পীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরিসহ রংতুলির কাজ শেষ করতে ব্যস্ততার শেষ নেই প্রতিমাশিল্পীদের।
শিল্পীদের নিপুণ কারুকাজে প্রতিমাগুলোতে ফুটে ওঠেছে সৌন্দর্য। মাটি, খড় ও বাঁশের কাঠামো থেকে শুরু করে রং ও সাজ সজ্জার প্রতিটি ধাপেই রয়েছে তাদের শ্রম ও সৃজনশীলতা। প্রতিমা তৈরির কাজ ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য বাড়ে কারিগর তথা প্রতিমাশিল্পীদের মধ্যে। আর প্রতিমার শেষ সাজসজ্জা দেখতে মন্ডপগুলোতেও ভিড় করছেন অনেকেই।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে।
নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিনটি উপজেলায় এ বছর ৫৪৩টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪৯টি মন্ডপে, লোহাগড়া উপজেলায় ১৫০টি মন্ডপে এবং কালিয়া উপজেলায় ১৪৪টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট পংকজ বিহারী ঘোষ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মন্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানান, মন্ডপগুলোতে পূজার আগে এবং পূজা চলাকালে ব্যাপক নিরাপত্তা থাকবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। তবে থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ তৎপর থাকবে।
নড়াইল জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম জানান, আসন্ন দুর্গোৎসব যাতে সুষ্ঠুভাবে ও উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সে লক্ষ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শরিফুল ইসলাম/অলি/
