রংপুর হারালো একজন মেধাবী গবেষক, জাসদ হারালো একজন পরীক্ষিত সহযোদ্ধা
কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের শূন্যতা তৈরি করে না। তাঁদের অনুপস্থিতি অনুভূত হয় সমাজে, রাজনীতিতে, গবেষণায়, ইতিহাসচর্চায় এবং মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। রিয়াদ আনোয়ার শুভ ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।
শুভর সঙ্গে আমার পরিচয় আজকের নয়। আমি যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, তখনই প্রথম তাঁদের বাড়িতে যাওয়া শুরু করি। তাঁর চাচার সঙ্গে আমার বড় ভাইয়ের বন্ধুত্বের সূত্রে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তখন শুভ বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করেছে। তার ছোট বোন মিথিলা তখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি। সেই ছোট্ট শুভকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি দেখেছি একজন ছাত্র হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে, একজন গবেষক হিসেবে এবং সর্বশেষ একজন অসুস্থ শরীর নিয়েও সচেতন ও প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে।
শুভর বাবা শাহ আনোয়ারুল হক আনু ছিলেন আইনজীবী। তাঁর মা উম্মে হাবিবা জাকিয়া হক ছিলেন রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। পরবর্তীতে তিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। এমন একটি পরিবারে বেড়ে ওঠা শুভর মধ্যে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা, যুক্তি, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বোধ তৈরি হয়েছিল।
১৯৮৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে শুভ কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হয়। তার কলেজজীবন ছিল এমন এক সময়, যখন ছাত্ররাজনীতি ছিল উত্তাল, সংঘাতপূর্ণ এবং মতাদর্শগতভাবে বিভক্ত। এর আগের সময় থেকেই কলেজের ছাত্ররাজনীতিতে একটি সংগঠনের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম নানা বাধার মুখে পড়েছিল। অনেক ছাত্রনেতার পক্ষে কলেজে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কারমাইকেল কলেজে শুভর প্রবেশ।
স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধার মুখোমুখি হলে শুভ, মামুন, শোহেল, হান্নানসহ কয়েকজন তরুণ ছাত্র তার প্রতিবাদ করে। সেই প্রতিরোধ শুধু একটি দিনের ঘটনা ছিল না; পরবর্তীকালে এটি কলেজের ছাত্ররাজনীতিতে একটি বৃহত্তর ঐক্যের ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন প্রগতিশীল শক্তির মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে এবং পরবর্তী ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পরিবর্তনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
সেই সময়ের তরুণ শুভকে আমি দেখেছি ভয়কে অগ্রাহ্য করতে।
রাজনীতি তাঁর কাছে শুধু স্লোগান ছিল না। বিশ্বাসের জায়গা থেকে রাজনীতি করতেন তিনি। ছাত্রজীবনে নানা মামলার আসামি হয়েছেন, কারাবরণও করেছেন। কিন্তু এসব তাঁকে থামাতে পারেনি। ছাত্রজীবন শেষে তিনি জাসদের রাজনীতিতে যুক্ত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ অতিক্রম করে বর্তমানে তিনি রংপুর মহানগর জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
কিন্তু শুভর জীবনকে শুধু রাজনীতির পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যাবে না।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াইগুলোর একটি ছিল নিজের শরীরের সঙ্গে। ফুসফুসের প্রদাহজনিত জটিলতায় ২০০৫ সালে তাঁর ফুসফুসে অস্ত্রোপচার হয়। ফুসফুসের একটি বড় অংশ কেটে ফেলতে হয়েছিল। এরপর থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য রাজপথের মিছিলে, সমাবেশে কিংবা কঠিন শারীরিক কর্মসূচিতে আগের মতো সরাসরি অংশ নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
কিন্তু শরীরের সীমাবদ্ধতা তাঁর চিন্তার সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারেনি।
রাজপথে হাঁটার শক্তি কমে গেলেও তাঁর হাতে উঠে এল কলম।
তিনি রংপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা শুরু করলেন। যে মানুষটি একসময় মিছিলের সারিতে দাঁড়াতেন, সেই মানুষটিই পরে তথ্য-উপাত্ত, ইতিহাস ও গবেষণার মাধ্যমে রংপুরকে জানার এবং জানাবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করলেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণাগ্রন্থ ‘রণভূমি রংপুর’ তাঁর সেই অনুসন্ধিৎসু মননের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।
রংপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর যে গভীর আগ্রহ ছিল, তা তাঁর সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যেত। কোনো তথ্যের সূত্র, কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা কিংবা রংপুরের কোনো বিস্মৃত অধ্যায় সামনে এলে তিনি সেটিকে অবহেলা করতেন না। খুঁজতেন, পড়তেন, যাচাই করতেন এবং অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করতেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও সমর্থন ছিল গভীর।
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো বক্তব্য, কর্মকাণ্ড কিংবা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার কোনো প্রচেষ্টা তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে যেত না। তিনি প্রতিবাদ করতেন। অনেক সময় তাঁর সেই প্রতিবাদ ছিল লেখার মাধ্যমে।
জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনকে তিনি সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের সুযোগে যখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর হামলা ও মব-সহিংসতার ঘটনা সামনে আসে, তখন শুভ আর নীরব থাকতে পারেননি। অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন।
একদিন আমি তাঁকে বলেছিলাম—বাবা, তুমি যেভাবে প্রতিবাদ করছ, তোমাকে তো জেলে যেতে হতে পারে।
শুভর উত্তরটি আজও আমার কানে বাজে—
“শারীরিকভাবে তো জেলেই আছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলতে গিয়ে যদি জেলে যেতে হয়, যাব। ভয় করে কী হবে?”
এই একটি কথার মধ্যেই যেন শুভর চরিত্রের একটি বড় অংশ ধরা পড়ে।
শরীর তাঁকে বন্দি করেছিল, কিন্তু চিন্তাকে বন্দি করতে পারেনি।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে ক্লিনিক থেকে ফিরে আসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। মোবাইল ফোন ও ফেসবুকও আগের মতো ব্যবহার করতে পারছিলেন না। ফলে অনেকের সঙ্গেই তাঁর যোগাযোগ কমে গিয়েছিল। আমিও অনেক সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতাম না।
২৬ সেপ্টেম্বর জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি। পরদিন কারও কাছ থেকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে ফোন করেন। খবর জানতে চাইলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলেন।
যে অসুস্থতার কারণে তিনি নিয়মিত মোবাইল ব্যবহার করতে পারছিলেন না, সেই মানুষটিও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের ওপর হামলার খবর শুনে চুপ থাকতে পারেননি।
এটাই ছিল শুভ।
তিনি ছিলেন একজন informed political leader—তথ্যসমৃদ্ধ, সচেতন ও অনুসন্ধিৎসু রাজনৈতিক মানুষ। আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন মানুষ ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে।
রংপুরের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর চিন্তা ছিল গভীর। রংপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি তিনি উন্নয়ন, নদী, কৃষি, মানুষের জীবন ও আঞ্চলিক বৈষম্যের বিষয়েও সচেতন ছিলেন।
তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ ছয় দফা আন্দোলনের প্রতিও তাঁর ছিল আন্তরিক সমর্থন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন—তিস্তা শুধু একটি নদীর প্রশ্ন নয়; তিস্তা উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ, জীবিকা এবং মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।
তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিকে তিনি কেবল একটি নদী রক্ষার আন্দোলন হিসেবে দেখেননি। রংপুর ও উত্তরাঞ্চলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সঙ্গে এর সম্পর্ক তিনি অনুধাবন করতেন। বিভিন্ন সময় তাঁর পরামর্শ, আলোচনা ও উৎসাহ আমাদের পথচলায় সাহস জুগিয়েছে।
আজ তাঁর অনুপস্থিতিতে সেই কথাগুলো আরও বেশি মনে পড়ছে।
মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্কের কোনো আনুষ্ঠানিক নাম থাকে না। শুভ আমার কাছে শুধু একজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন না। বয়সের ব্যবধান ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তিনি ছিলেন আমার কাছে একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ভাতিজা।
তাঁর চলে যাওয়ার পর মনে হচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে আমি হারালাম এমন একজন মানুষকে, যার সঙ্গে কথা বলা যেত, পরামর্শ নেওয়া যেত, মতের আদান-প্রদান করা যেত।
রংপুর হারাল একজন নিবেদিতপ্রাণ মেধাবী গবেষককে।
জাসদ হারাল তথ্যসমৃদ্ধ, পরীক্ষিত একজন সহযোদ্ধাকে।
রংপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্যচর্চা হারাল একজন অনুসন্ধিৎসু মানুষকে।
তিস্তা পাড়ের মানুষ হারাল একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও বুদ্ধিদাতা মানুষকে।
আর আমরা হারালাম এমন একজন মানুষকে, যিনি অসুস্থ শরীর নিয়েও চিন্তা করতে জানতেন, প্রশ্ন করতে জানতেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানাতে জানতেন।
শুভর জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ে—তিনি কখনো পুরোপুরি থেমে যাননি।
রাজপথে বাধা এসেছে—তিনি প্রতিরোধ করেছেন।
মামলা হয়েছে—কারাবরণ করেছেন।
শরীর ভেঙে গেছে—কলম হাতে নিয়েছেন।
শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে ঘরে আটকে দিয়েছে—কিন্তু তাঁর চিন্তা আটকে থাকেনি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত এসেছে—তিনি প্রতিবাদ করেছেন।
রংপুরের ইতিহাস বিস্মৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখেছেন—গবেষণায় নেমেছেন।
তিস্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখেছেন—পরামর্শ দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন।
এই ধারাবাহিকতাই রিয়াদ আনোয়ার শুভকে আমাদের কাছে আলাদা করে চেনায়।
মানুষ মৃত্যুর পর কতটা বেঁচে থাকে—তার উত্তর কেবল স্মৃতিতে নয়। কেউ বেঁচে থাকেন তাঁর কাজের মধ্যে, কেউ তাঁর লেখায়, কেউ তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসে, কেউ মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতায়।
শুভও তেমনভাবেই বেঁচে থাকবেন।
তাঁর লেখা, তাঁর গবেষণা, তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং রংপুরের প্রতি তাঁর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে।
আজ তাঁকে বিদায় জানাতে গিয়ে শুধু শোক প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাঁর অসমাপ্ত গবেষণাগুলো সংরক্ষণ করা দরকার। তাঁর লেখা, নথি, গবেষণার উপকরণ ও রংপুরের ইতিহাস নিয়ে তাঁর সংগ্রহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া দরকার। কারণ একজন গবেষকের মৃত্যু যেন তাঁর গবেষণারও মৃত্যু না হয়।
শুভ, তুমি চলে গেলে। কিন্তু তোমার রেখে যাওয়া প্রশ্নগুলো রয়ে গেল।
রয়ে গেল রংপুরকে জানার দায়।
রয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে রক্ষা করার দায়।
রয়ে গেল মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলার দায়।
রয়ে গেল তিস্তা পাড়ের মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার দায়।
আর আমার নিজের জন্য রয়ে গেল একটি অপরাধবোধও।
শুভ, ক্ষমা করে দিও।
মরহুম আজিজুল এবং আমি তোমাকে ছাত্রাবস্থায় অনেক সময় বিরক্ত করেছি।আবার আমি কখনো পরামর্শের জন্য, কখনো তথ্যের জন্য, কখনো কোনো লেখা বা বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করার জন্য ব্যস্ত করেছি। তখন হয়তো বুঝিনি, একজন অসুস্থ মানুষকে আমি কতটা ব্যস্ত করে তুলছি।
আজ বুঝতে পারছি।
তুমি হয়তো ক্লান্ত শরীর নিয়েও আমাদের কথা শুনেছ। উত্তর দিয়েছ। পরামর্শ দিয়েছ। সাহস জুগিয়েছ।
এখন আর ফোন করলে ওপাশ থেকে তোমার কণ্ঠ শোনা যাবে না।
কোনো নতুন তথ্য নিয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক করা যাবে না।
রংপুরের ইতিহাসের কোনো অজানা অধ্যায় নিয়ে তোমার কাছ থেকে নতুন কিছু জানা হবে না।
তবু তুমি থাকবে—তোমার কাজের মধ্যে, তোমার লেখার মধ্যে, তোমার গবেষণার পাতায়, তোমার রাজনৈতিক বিশ্বাসে এবং আমাদের স্মৃতিতে।
শুভ, তুমি শারীরিকভাবে হয়তো চলে গেছ। কিন্তু তোমার চিন্তা, তোমার প্রশ্ন আর তোমার প্রতিবাদের কণ্ঠ—তা যেন কখনো না থামে।
রংপুর তোমাকে মনে রাখবে।
আমরাও রাখব।
লেখক: শফিয়ার রহমান
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রংপুর জিলা স্কুল ও সাধারণ সম্পাদক তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ
