ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই মনসুর আব্বাস
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে সরকার গঠনের অন্যতম প্রধান নিয়ামক বা ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন ইসলামপন্থী দল ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা ‘রাম’-এর নেতা.....
আন্তর্জাতিক ডেস্কইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে সরকার গঠনের অন্যতম প্রধান নিয়ামক বা ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন ইসলামপন্থী দল ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা ‘রাম’-এর নেতা মনসুর আব্বাস। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে বিরোধী জোট যদি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়, তবে আব্বাসের দলের সমর্থন তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে।
নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারণায় মনসুর আব্বাসকে ইসরায়েলের জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে ৫২ বছর বয়সী এই নেতার মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য ফিলিস্তিন নয়, বরং ইসরায়েলে বসবাসরত ২০ শতাংশ আরব নাগরিকের অধিকার আদায় ও বৈষম্য দূর করা।
মনসুর আব্বাসের মতে, আরবদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই ২০২১ সালে তিনি একটি ইসলামপন্থী দলের নেতা হয়েও প্রথমবারের মতো মূলধারার রাজনীতিতে অংশ নিয়ে জোট সরকার গঠনে ভূমিকা রেখেছিলেন।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মনসুর আব্বাস এক অভাবনীয় রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর দলের প্রার্থী তালিকার ২ নম্বর অবস্থানে মধ্য-বামপন্থী ইহুদি রাজনীতিক এবং সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ইয়াভ সেগালোভিচকে জায়গা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ইহুদি ও আরবদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিতে চাইছেন এবং আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে লাগামহীন অপরাধ দমনের ওপর জোর দিচ্ছেন।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার দিনই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন মনসুর আব্বাস। তাঁর এই আপসকামী নীতি এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুলনামূলক নীরবতার কারণে নিজ সম্প্রদায়ের এবং অন্যান্য আরব নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তা সত্ত্বেও আব্বাস অবিচল। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে কট্টর ইহুদিবাদীদের আক্রমণের মুখেও রাষ্ট্রযন্ত্রের অংশ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ
