সংবাদদাতা, বারুইপুর: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল গতকাল। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। মৃতের নাম আজহারুল লস্কর। তাঁর বাড়ি বারুইপুর সংলগ্ন জীবনতলা এলাকায়। হাসপাতালের মধ্যেই কীভাবে ওই বন্দির মৃত্যু হল, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর অপহরণ সংক্রান্ত একটি মামলায় আজহারুল লস্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে বারুইপুর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সংশোধনাগারে যাওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল তাঁকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে সোমবার হাসপাতালে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে অনুমান করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। হাসপাতালের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কী পরিস্থিতিতে ওই বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও বন্দির নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর উপর কী ধরনের নজরদারি ছিল, মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ঘটনার সময় আশপাশে কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না, তদন্তে সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। আজ মঙ্গলবার মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর কথা রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বিচারাধীন বন্দির এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে এটি আত্মহত্যা, নাকি মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর।
