‘ফাদার অব অল বোম্বস’ নামে নতুন একটি মারণাস্ত্র উন্মোচন করবে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মোহাবি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি এমন অস্ত্র যা শত্রুরা আগে দেখেনি।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড এমন সময় নতুন অস্ত্র সামনে আনার কথা বলল যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে একটি বিশালাকার বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন বাহিনীর কাছে ‘অ-পারমাণবিক’ যত বোমা আছে এরমধ্যে মাদার অব অল বোম্বস সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী।
বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র নতুন অস্ত্র নিয়ে বার্তাসংস্থা ওয়াইজেসিএনএ-কে গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বলেন, “আমরা ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচন করার প্রস্তুতি পর্বে আছি। এটি শত্রুদের জন্য নতুন অস্ত্র।”
তবে অস্ত্রটি কী ধরনের, কতটা শক্তিশালী, এর কার্যক্ষমতা অথবা কখন এটি উন্মোচন করা হবে সেটি স্পষ্ট করেননি মোহাবি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বোম্বস’ কী?
‘মাদার অব অল বোম্বস’ হলো বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে এটি ‘বিশেষ সম্পদ’। এই বোমার সম্ভাব্য ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে দিতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ইস্যুর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করেছেন।
একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে গত সপ্তাহে এ নিয়ে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন কোনো পরিকল্পনা তৈরি করে—তারা নীতিনির্ধারকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিকল্প প্রস্তুত রাখে—যার মধ্যে সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, মাটির অনেক গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুগুলোর জন্য বড় বোমার প্রয়োজন হয়, আর ‘মাদার অফ অল বম্বস’ হলো সবচেয়ে বড় বোমা।
সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ অন্যান্য স্থাপনার বিরুদ্ধে ‘মাদার অফ অল বম্বস’ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে খোদ মার্কিন বাহিনীতে। সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের একজন সিএনএন-কে বলেছেন, ওয়াশিংটনের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে এই বোমাটি কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিপিএস-নির্দেশিত এই বোমাটি নয়টি সিটি ব্লকের সমান এলাকা ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, এটি সম্ভবত ইরানের পিকাক্স পর্বতের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম নয়। ধারণা করা হয়, এই স্থাপনাগুলো গ্রানাইট পাথরের পুরু স্তরে সুরক্ষিত। এছাড়া ইরানের অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প হয়তো ‘মাদার অফ অল বম্বস’-কে একটি মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
সূত্র: আনাদোলু
