বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বারবার ঘুরেফিরে আসে মায়ের আগমনে শারদীয় দুর্গাপূজা। সমাজের অসত্যকে বিনাশ করে সত্য, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী। গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে দুর্গাপূজা পরিদর্শন শেষে উপস্থিত দর্শনার্থী ও সনাতন ধর্মের ভক্তবৃন্দের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দুর্গাপূজা যে বার্তাটি দেয়, সেটি সর্বজনীন, একক কোনো ধর্ম সম্প্রদায়ের নয়। প্রত্যেক ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য, মানবজীবনের জন্য এই বার্তা। এ সময় রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, উৎসব সব সীমারেখা অতিক্রম করতে শেখায় এবং ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করে। উৎসবের সর্বজনীন যে তাগিদ, সেখানে অন্যান্য ধর্মের মানুষও আনন্দবোধ করেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া। এই দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘেœ, শান্তিতে ও নিরাপত্তার সঙ্গে উদযাপিত হয়, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং রাষ্ট্র সেই দায়িত্বই পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, এবারের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইদের কাছ থেকে দুদিনের ছুটির আবেদন করা হলেও সরকার এটিকে তিন দিন করেছে। হিন্দু ভাইয়েরা এবার মোট ৫ দিন ছুটি উপভোগ করতে পারছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পূজাম-প-মন্দিরের জন্য ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও সরকার এবার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত সরকারের কাছ থেকে প্রতি মাসে সম্মানী পাবেন। সরকার এই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য হলো, আমরা একের উৎসবে অন্য অংশগ্রহণ করেছি। আমাদের এই সুমহান ঐতিহ্যকে নিয়ে কেউ কেউ চক্রান্ত করতে পারে, ষড়যন্ত্র করতে পারে, কিন্তু এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনোই এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেবে না।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লোকজ যে সাংস্কৃতিক ধারা, একসঙ্গে সেখানে অংশগ্রহণ করেছি শত শত বছর ধরে। পূজা, ধর্মবিশ্বাস যার যার তার তার কাছে রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব, প্রত্যেক নাগরিক যেন তার ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগ করতে পাওে, সেটি তারেক রহমান নিশ্চিত করেছেন।’