দাগনভূঞা পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপি নির্বাচন
বিএনপির হিসাব-নিকাশ, একক প্রার্থী জামায়াতের
শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা (ফেনী)
- আপডেট সময় : ০৪:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
# দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা
ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ৩ নং পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে হিসাব-নিকাশ কষছেন উপজেলা বিএনপির হাই কমান্ড। এই দিকে পুরপুরে মেজাজে আছে একক প্রার্থী দেওয়া জামায়াত ইসলামি। অন্যান্য দলের নীতি নির্ধারনী ফোরামও চেষ্টা করছেন একক প্রার্থী দেওয়ার। ইউপি নির্বাচনকে ঘীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা ইতিমধ্যেই বেশ জোরদার হয়ে উঠেছে।
দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে ২৭ মে শেষ হবে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
দেশব্যাপী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইউনিয়নের মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল গেজেট তথ্য অনুযায়ী ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ৩নং পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২৬০৯৯ জন (পুরুষ: ১৩৭১৩ জন ও মহিলা: ১২৩৮৬ জন
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থী, দলীয় মনোনয়ন ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা স্বেচ্চাসেবক দলের যুগ্ন সম্পাদক আলা উদ্দিন আলো তিনি একাদারে পূর্ব চন্দ্র পুর ইউনিয়ন বিএনপি উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কমিটির প্রধান। তার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনটি মামলা হয়েছে। অন্য দিকে তরুন নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক নিজাম উদ্দিন ভূঞা হুদন । তিনি ২০১১ ও ২০১৬ সালে আওয়ামী সরকার আমলে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করেন। তখন তিনি আওয়ামীলীগের দলীয় লোক দারা হামলার শিকার হন। তার ১৩ টি মামলা রয়েছে ও ৩ বার কারাবরণ করেছেন। ১৪ বার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন। তৃনমূলের কাছে তিনি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মন্জু সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
সাবেক ছাএদল নেতা ও ফেনী জেলা যুবদলের সদস্য শাখাওয়াত হোসেন মামুন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি কারা বরন করেন ৭ বার, মামলা সংখ্যা ১৮ টা এবং ৯৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। ফেনী জেলা যুব দলের সাবেক সদস্য পেয়ার আহমদ আকাশ সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। বিতগ আওয়ামী লীগ আমলে তার নামে ৫ টি মামলা হয়েছে। তিনবার কারাবরন করেন। উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক ইকরাম হোসেন মানিক সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ৫ টি মামলা হয়েছে ও ২ বার কারাবরণ করেন। ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক নজরুল ইসলাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ৫ টি মামলা দেওয়া হয়েছে। সাবেক ছাত্র দল নেতা দেলোয়ার হোসেন সুমন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। আইনজীবি সাইফুল ইসলাম দুলাল সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তিনি উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পূর্ব চন্দ্র পুর ইউনিয়ন ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাসান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পূর্ব চন্দ্র পুর ইউনিয়নে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলীয় প্রার্থী হিসেবে জামায়াত ইসলামির ব্যাবসায়ী শাখার শহর সেক্রেটারী ফখরুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতি মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকেও পর্ব চন্দ্র পুর ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পূর্ব চন্দ্র পুর ইউনিয়ন ইসলামি আন্দোলন এর সভাপতি আজিজুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি একাদারে দাগনভূঞা উপজেলা ইসলামি আন্দোলন শাখার দাওয়াত ও জনশক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
দাগনভূঞা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও প্রস্তুতি চলছে। খেলাফত মজলিশের ফেনী জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. আজিজ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁদের দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ইউনিয়নে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত জানান, দাগনভূঞা উপজেলার সব ইউনিয়নে এনসিপির পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো কোনো ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকেও প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসব নামকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৩ নং পূর্ব চন্দ্র পুর ইউনিয়নের আগামী নির্বাচনে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন, তৃণমূলের সমর্থন, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভোটারদের মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একই দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় দলীয় সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠের চিত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কোনো দল একক প্রার্থী ঘোষণা করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অবস্থানও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এতে সম্ভাব্য নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচন হলে তা যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং প্রার্থী ও সমর্থকদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা চান তাঁরা।
সব মিলিয়ে ৩ নং পূর্ব চন্দ্র পুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়লেও এখনো নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। দলীয় মনোনয়ন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র পরিষ্কার হবে।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুল উদ্দিন বলেন, বিএনপি একটি বৃহত রাজনৈতিক দল এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনবান্ধন, সততা ও সার্বজনীন লোক, দলীয় ক্লিন ইমেজ, দলের জন্য ত্যাগ ও শ্রমকে মূল্যয়ন করা হবে।
