The Sangbad · টেক
‘আধুনিক প্রযুক্তিতে অপরাধ দমন, বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা নেই’
১৪/১০/২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ সব বিষয়ে সরকারের শতভাগ দায়িত্ব থাকলেও এসব বিষয়কে সরকার কোনো বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ সামরিক বা যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই।বুধবার চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার ও আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।অপরাধ দমনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “অপরাধ দমন করতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়। এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। অপরাধীদের দমনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে গেলে কেউ আসামিকে সহযোগিতা করলে, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের গুরুত্ব ও কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এটি পরিচালিত হবে এবং ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় বজায় থাকবে।বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষিত স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এমনকি শেয়ারবাজারেও কারসাজি করা হচ্ছে। এসব অপরাধ শনাক্ত ও দমনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের বিকল্প নেই।”আন্তর্জাতিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ উদ্দেশ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সাইবার পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ডিজিটাল বিশ্লেষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।সিআইডির কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সিআইডি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি পরিচালনা করে আসছে এবং এসব পরীক্ষার মাধ্যমেই মূলত গুরুত্বপূর্ণ ভিসেরা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে অপরাধের গতিপ্রকৃতি বদলানোর কারণে এ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, “বিচারপ্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর প্রত্যয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আধুনিক সরঞ্জাম, লজিস্টিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুবিধাসম্পন্ন পরীক্ষাগার স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗