হ্যারি ব্রুকের রেকর্ডগড়া ইনিংসে রানের পাহাড় গড়েছিল ইংল্যান্ড। দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে লক্ষ্য দিয়েছিল চারশ ছাড়ানো। এমন লক্ষ্য দেখে লঙ্কান সমর্থকদের হয়ত চোখ কপালেই উঠেছিল। এই রানের পাহাড় ভাঙতে শ্রীলঙ্কাকে গড়তে হতো রেকর্ড। সেই নেশা নিয়েই মাঠে নেমেছিল লঙ্কানরা। ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় তুলে নিয়েছে তারা। সঙ্গে উপহার দিয়েছে শেষ ওভারের রোমাঞ্চ।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪২৯ রান করে ইংল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ৪৯.৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌছে গিয়েছে শ্রীলঙ্কা। জয় তুলে নিয়েছে ২ উইকেটের।
অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে শেষ ওভারের রোমাঞ্চও দেখা গেছে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৮ রান প্রয়োজন ছিল শ্রীলঙ্কার। প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন জেনিথ লিয়াঙ্গে। কিন্তু এতেই হারের চোখ রাঙানি দিয়েছিল লঙ্কানদের। পরের দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন জশ টং। এতে শেষ ৩ বলে ৭ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কার।
চতুর্থ সিঙ্গেল নিয়ে লিয়াঙ্গেকে স্ট্রাইক দেন নতুন ব্যাটার হিসেবে নামা আসিথা ফার্নান্দো। তখন লক্ষ্য দাঁড়ায় দুই বলে রানের। তবে শেষ বল পর্যন্ত আর অপেক্ষা করেননি লিয়াঙ্গে। টংয়ের পঞ্চম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে নিশ্চিত করেন শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক জয়।
শ্রীলঙ্কার এই জয় ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় করে জয়। ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান তাড়ায় করে জয়ের রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার করা ২৩৪ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও এটি। এর আগে লঙ্কানদের সর্বোচ্চ ৩২১ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল। কাকতালীয়ভাবে সেটিও ছিল এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩২১ রান তাড়া করতে নেমে ৩৭.৩ ওভারেই জয় তুলে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।
পাহাড়সম রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই হোচট খেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। দলীয় ২৩ রানের মাথায় আউট হয়ে যান ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিস। তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক কুশল পেরেরা তো স্ট্রাইকে যাওয়ার আগেই কাটা পড়েন দুর্ভাগ্যের রানআউটে। নন-স্ট্রাইক প্রান্তে রানআউট হন তিনি।
এমন অবস্থায় হয়ত লঙ্কান সমর্থকরাও জয়ের কথা চিন্তা করতে পারছিলেন না। তবে সেটাই বাস্তব করেন পরের ব্যাটারা। শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর পর জুটি বাঁধেন ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো আর পাভান রত্নায়েকে। তৃতীয় উইকেটে ১৩৭ বলে ১৬৬ রানের তাদের এই জুটিই পথ দেখায় শ্রীলঙ্কাকে।
ইংল্যান্ডের বোলারদের মোকাবিলা করে সেঞ্চুরির কাছে চলে গিয়েছিলেন আভিষ্কা ফার্নান্দো। তবে নার্ভাস নাইন্টি পার করতে পারেননি তিনি। কাটা পড়েন ৮৩ বলে ৯৭ রান করে সেঞ্চুরির আফসোস নিয়ে।
আভিষ্কা সেঞ্চুরি মিস করলেও ভুল করেননি রত্নায়েকে। দারুণ ব্যাটিংয়ে ইংলিশ বোলারদের আরও কিছুটা সময় শাসন করেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে এরপর ফেরেন স্যাম কারানের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে। শেষ পর্যন্ত তার ইনিংস থামে ১০৬ বলে ১৩০ রানে।
বাকিরা কিছুটা দেখেশুনে খেললেও উইকেটে এসেই ঝড় তোলা শুরু করেছিলেন লঙ্কান অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা। উইকেটে যতটা সময় ছিলেন তিনি, ততটা সময়ই ইংলিশদের বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছেন। উইকেটে ঝড় তুলে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের আশা দেখিয়ে সেঞ্চুরির পথেই হাঁটছিলেন তিনি। তবে শানাকাও কাঁটা পড়েছেন নার্ভাস নাইন্টিতে। মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রান করেন লিয়াম ডওসনের বলে আউট হন তিনি।
শানাকা যেখানে শেষ করেন সেখান থেকেই শুরু করেন দুনিথ ওয়েল্লালাগে। তিনি ছিলেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক। মাত্র ২৭ বলে ৬১ রানের ক্যামিও খেলে শ্রীলঙ্কাকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন লিয়াঙ্গে। ছক্কা হাঁকিয়ে এক বল বাকি থাকতেই লঙ্কানদের জয়ের উল্লাসে মাতান।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাদামাটা শুরু করেন দুই ইংলিশ ওপেনার টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেট। ইনিংসের ১৪তম ওভারে গিয়ে প্রথম উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ৫১ বলে ৫০ রান করা ব্যান্টন ফিরলে ভাঙে ৭৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর দ্রুতই ফেরেন আরেক ওপেনার ডাকেটও (৩৯ বলে ২৯)।
শতক ছাড়ানোর আগেই দুই উইকেট হারানো ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিরোধ গড়েন হ্যারি ব্রুক আর জো রুট। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১২৭ বলে ১৫৯ রানের জুটি। হাফসেঞ্চুরি করে ৬৬ বলে ৬৯ রান করে রুট ফিরলে ভাঙে সেই জুটি।
এরপর উইল জ্যাকসকে নিয়ে আরেকটি জুটি গড়েন ব্রুক। চতুর্থ উইকেটের এই জুটি ছিল আরও আক্রমণাত্মক দুই দিক থেকেই ঝড় তোলেন ব্রুক আর জ্যাকস। মাত্র ৭৯ বলে ১৮৫ রানের জুটি গড়েন এই দুজন।
ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন ব্রুক। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে ইতিহাস গড়া ব্যাটিং করেন তিনি। মাত্র ১১৪ বলে তুলে ডাবল সেঞ্চুরির। যা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি। রেকর্ডগড়া ইনিংস খেলে শেষ বলে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। শেস পর্যন্ত ১১৬ বলে ২০২ রানের ইনিংস খেলেন ব্রুক।
অন্যপ্রান্তে ঝড় তোলা জ্যাকস অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন। টর্ণেডো ব্যাটিংয়ে জ্যাকস খেলেন ৩০ বলে ৬০ রানের ইনিংস। ইংল্যান্ড দাঁড় করায় ৪২৯ রানের পুঁজি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন দুনিথ ওয়েল্লাগে। একটি করে উইকেট নেন আসিথা ফার্নান্দো আর জেনিথ লিয়াঙ্গে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল
৪ ঘন্টা আগে
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
