রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন
প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হকের ইন্তেকাল
প্রবীণ এই সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ ময়মনসিংহ রিজিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নাইমুল হকের পিতা, প্রবীণ সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শহিদুল হক (৮২) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, লিভার ও কিডনি জটিলতায় ভোগার পর গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার পুত্র ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুম শহিদুল হক ছিলেন কুমিল্লার বাইড়া মোহাম্মদ আরিফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত সরকারি মিডিয়াভুক্ত ‘মাসিক জয়ভেরি’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার মুরাদনগর-দেবিদ্বার এলাকার সংবাদ প্রতিনিধি ও কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন।
কর্মজীবনে তিনি মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি, কুমিল্লা জেলা সম্পাদক পরিষদের সহ-সভাপতি এবং কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পরিচালক হিসেবেও অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরহুমের পৃথক জানাজার নামাজ ঢাকা আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কলোনি জামে মসজিদ ও কুমিল্লার দেবিদ্বার ফাজিল এতিমখানা জামে মসজিদ এবং মুরাদনগরের বাইড়া স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাইড়া গ্রামে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়াত এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফুলেল শ্রদ্ধা ও গার্ড অব অনার (রাষ্ট্রীয় সম্মাননা) প্রদান করা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
প্রবীণ এই সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
