রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এর আওতায় শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং নিরাপদ পথে বেসামরিক মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আগামী মাসে শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে তিন দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এ যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ২৭ অক্টোবর ভোর ৪টা থেকে গোলাবর্ষণ বন্ধ থাকবে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও একই সময় থেকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার কথা জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ওলেশকিতে ২৪ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। এখন সেখানে রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার মানুষ। শহরটিতে খাদ্যসংকট তীব্র হওয়ায় বাসিন্দাদের খাবার, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির জরুরি প্রয়োজন।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা নভেম্বরের প্রথমার্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আলোচনা করতে পারেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবুধাবি অথবা সুইজারল্যান্ডে বৈঠক হতে পারে। জেলেনস্কি আশা করছেন, আলোচনার পর তিন দেশের নেতাদের বৈঠকও হবে।
তবে শান্তি চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে। রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের পুরোটা ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ইউক্রেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নয়। জেলেনস্কি বলেছেন, যেকোনো শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং দেশটির সেনাবাহিনী পরিচালনার জন্য ১০ বছরের অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
শান্তি আলোচনার পাশাপাশি শুক্রবার রাশিয়া ও ইউক্রেন ২৭০ জন করে সেনাসদস্য বিনিময় করেছে। আগস্টের পর এটিই দুই দেশের প্রথম বড় বন্দিবিনিময়।
সূত্র: রয়টার্স
