কালবেলা · অর্থনীতি
মিয়ানমারের জান্তাসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকন্যার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
১১/১০/২০২৬

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে সহায়তার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন ব্যবসায়ী থেইন্ট উইন হতের মেয়ে। এবার তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল জাজিরার।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত জুলাইয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মামলা করেছিলেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ শুরুর খবর প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত সামনে এল। ২০২১ সালে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটির সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে থেইন্ট উইন হতের বাবা থেইন উইন জাওয়ের প্রতিষ্ঠিত শ্বে বিয়ান ফিউ গ্রুপ অব কোম্পানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি সামরিক বাহিনীকে জ্বালানি সরবরাহ করত এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিল।
থেইন্ট উইন হতে প্রথমে বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তবে গত বছর সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। এরপর গত জুলাইয়ে দ্বিতীয়বার মামলা করে তিনি দাবি করেন, বাবার ব্যবসায় তার কোনো ভূমিকা নেই।
নিষেধাজ্ঞার কারণে তার মার্কিন ক্রেডিট কার্ড বন্ধ হয়ে যায়, বিদেশি ব্যাংক হিসাব ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। বর্তমানে তিনি মায়ের সঙ্গে থাইল্যান্ডে বসবাস করছেন। তার মায়ের ওপর থেকেও গত বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে, মিয়ানমারের মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, সামরিক জান্তা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বাড়ালেও জান্তাকে অর্থায়নে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়েও মিয়ানমারের কয়েকজন নাগরিক ও একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল ওয়াশিংটন।
সূত্র: আলজাজিরা
মূল প্রতিবেদনে যান ↗