দেশে ৬২টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের মধ্যে ব্যারাকপুর প্রাচীনতমEi Samay
Published on
:
2 min read
অশীন বিশ্বাস, ব্যারাকপুর
ঔপনিবেশিক আমলের কাঠামো পাল্টে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকাকে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের গত কয়েক বছরের বঞ্চনা ও দুর্দশা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সমস্যার মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী এবং নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ছে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা। অর্জুন ২০১৯ সালে ব্যারাকপুরের সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই ব্যাপারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সবুজ সঙ্কেত দিলে রাজ্য সরকার সেই মতো সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়ায় এগোবে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।
গোটা দেশে ৬২টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের মধ্যে ব্যারাকপুর প্রাচীনতম। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সরাসরি পরিচালনা করে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলিকে। কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ অর্থেই চলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা। বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন এক জন জনপ্রতিনিধি আর ব্রিগেডিয়ার পদাধিকারবলে বোর্ডের প্রেসিডেন্ট।
ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাচন শেষ বার হয়েছিল ২০১৫ সালে। ২০২০ সালে সেই নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে ছ'বছর পেরিয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যানের পদে কেউ না-থাকায় এখন কার্যত অভিভাবকহীন বিস্তীর্ণ এলাকা। আয়ের প্রমাণপত্র কিংবা স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র পেতে নাগরিকদের চক্কর কাটতে হচ্ছে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে। তাঁদের অনেকেই বঞ্চিত হতে হচ্ছে রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধে থেকেও। সম্প্রতি মহকুমাশাসকের উপস্থিতিতে আয়োজিত, সরকারের 'সেবা সেতু' শিবিরের আয়োজনেও প্রশাসনিক জটিলতা প্রকট হয়ে ওঠে।
ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের আওতায় থাকা রিভারসাইড রোড, মিডল রোড, সদর বাজার, আদালি বাজার থেকে শুরু করে মরিয়ম মহল, বাজাজ মহল, বাকার মহল, কুজরা মহল, আলিগড় মহল, মুচি মহল কিংবা মুরগি মহল- প্রায় সর্বত্রই ভাঙাচোরা রাস্তা ও উপচে পড়া নর্দমার হতশ্রী ছবি। সামান্য বৃষ্টিতেই থইথই জলে গৃহবন্দি হওয়ার অবস্থা তৈরি হয়। সন্ধের পরে বহু রাস্তায় পথবাতি জ্বলে না। এ বারের বিধানসভা ভোটে নোয়াপাড়া থেকে অর্জুন সিং নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হওয়ার পরে সেই ছবি সামান্য কিছুটা হলেও পাল্টেছে। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সাধারণ মানুষের একরাশ সমস্যার কথা শুনতে হচ্ছে মন্ত্রীকে। পেশা। আইনজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা বীরেন ভকতের ক্ষোভ, 'নির্বাচিত বোর্ড না-থাকায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকার পরিষেবা তলানিতে এসে ঠেকেছে। বছরে ৫৬০ টাকা জলকর গুনেও পর্যাপ্ত ও পরিস্রুত পানীয় জল পাওয়া যায় না। রাজ্য সরকারের সুযোগ-সুবিধেও আমাদের নাগালের বাইরে।' বছর কয়েক আগে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছিল, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলির আলাদা অস্তিত্ব আর না-রেখে সেগুলিকে জুড়ে দেওয়া হবে স্থানীয় পুরবোর্ডের সঙ্গে।
উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হতে পারলে অন্তত কাউন্সিলাররা পরিষেবার জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন, সেই আশায় সংযুক্তির প্রস্তাবে সমর্থন জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। মন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের কথায়, 'হাজার হাজার মানুষকে এমন শোচনীয় অবস্থায় অনন্তকাল ফেলে রাখা যায় না। দিল্লির সঙ্গে কথা বলে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে জনসাধারণের স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।'
