সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে স্থানীয়দের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। আজ শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে বলে রাত ৯টায় নিশ্চিত করেছেন রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের প্রায় দেড় শ গজ ভেতরে বাংলাদেশ অংশে এসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর চড়াও হন। এ সময় স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দিলে বিএসএফ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৭-এর উপপিলার ৪ নম্বরের একদিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত এলাকা। অপরদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধার বিএস বাড়ী সীমান্ত এলাকা। আজ বিকেলে ওই এলাকায় সানিয়াজান নদীর সীমান্ত লাগোয়া অংশে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর ও বালু তুলছিলেন বাংলাদেশি কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ি ক্যাম্পের টহল দলের অন্তত ১০-১২ জন সদস্য নদীতে নেমে শ্রমিকদের ওপর চড়াও হন। শ্রমিকদের চিৎকার শুনে স্থানীয় ১৫-২০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে দ্রুত নদী পার হয়ে ভারতে চলে যান।
ঘটনা জানার পরপরই বুড়িমারী কোম্পানি সদরের বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সন্ধ্যায় ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে সীমান্ত অতিক্রম ও গ্রেনেড নিক্ষেপের প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। তবে বিএসএফ অভিযোগ অস্বীকার করে।
রংপুর ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম বলেন, ‘পাথর তোলার সময় বিএসএফ বাধা দিয়েছে। এ সময় ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটলে বিএসএফের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভয় দেখাতে সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়েন বিএসএফ সদস্যরা। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা প্রটেস্ট নোট (প্রতিবাদপত্র) দিয়েছি।’
