নিজের ও বোনের বিয়ের জন্য ১০ থেকে ১২ বছর ধরে গবাদিপশু পালন ও কৃষিকাজ করে একটু একটু করে জমিয়েছিলেন প্রায় সাত লাখ টাকা। সেই সঞ্চয়েই ছিল দুই ভাইবোনের নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু এক আগুনেই পুড়ে ছাই হয়েছে সেই স্বপ্ন। বসতঘরের সঙ্গে পুড়েছে দুটি গরু, ছয়টি ছাগল, হাঁস-মুরগি, আসবাবপত্রসহ ঘরে থাকা সব মালামাল। মুহূর্তেই দীর্ঘদিনের কষ্টের সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পটুয়াখালীর বাউফলের মোশাররফ হোসেন (৩০)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলালিংক টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে বাউফল ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তাৎক্ষণিকভাবে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পাঠান। পাশাপাশি তিনি ভিডিওকলে ক্ষতিগ্রস্ত মোশাররফের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন এবং শোক প্রকাশ করে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সংসদ সদস্যের পাঠানো প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যাপক খালিদুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মাদ উল্লাহ, মো. রাকিব হাসানসহ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজ নেন।
কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু-ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন মোশাররফ। দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছরে গবাদিপশু বিক্রি করে নিজের ও বোনের বিয়ের জন্য প্রায় সাত লাখ টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। ব্যাংকে না রেখে সেই টাকা ঘরেই সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু আগুনে বসতঘরের সঙ্গে পুড়ে গেছে তার জীবনের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ও।
মোশাররফ জানান, শৈশবেই তার বাবা মারা যান। এরপর মা ও বোনকে নিয়ে শুরু হয় তাদের সংগ্রামের সংসার। অনেক কষ্টে গবাদিপশু পালন ও কৃষিকাজ করে টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে নিজের ও বোনের বিয়ের আয়োজন করার স্বপ্ন ছিল। আগুনে সব হারিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
বাউফল ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ছাব্বির আহমেদ জানান, খবর পেয়ে দুটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।
