টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) চুমু দেওয়া অর্থাৎ যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেম আহম্মদ (৩০) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
গত বুধবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এরই মধ্যে, ছোট বাচ্চাকে চুমু দেওয়া নিয়ে একটি ফতোয়া জারি করেছেন তরুণ ইসলামী বক্তা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরমী ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি এবং আত-তাশরীফ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার (গাজীপুর) চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ফতোয়া দেন।
ফেসবুক পোস্টে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ লেখেন, “নাবালক ছোট বাচ্চাকে চুমু দেয়া ১০০ বার জায়েজ। তবে খারাপ উদ্দেশ্যে নয়।”
প্রসঙ্গত, মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর শিশুর বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কয়েকজন।
তখন ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘...আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু...।’ এরপর ‘কিসের চুমু রে’ বলে তাঁকে থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন শিশুটির স্বজনদের একজন।
ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিক্ষককে মারধর করছেন কয়েকজন। মাদ্রাসায় থাকা লোকজন তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করা হয় ভিডিওতে।
