বিশ্বের তিন প্রধান পারমাণবিক শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে আলোচনার অগ্রগতি, সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো কিংবা অস্ত্র কমানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সুযোগ থাকলে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত কমিয়ে আনতে চান। এ লক্ষ্যে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার কথাও স্বীকার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এ আলোচনা নিয়ে মস্কো বা বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পূর্বাভাস দেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে চীন পারমাণবিক সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। তাঁর মতে, বর্তমান সক্ষমতার ব্যবধানের কারণে বেইজিং নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় তুলনামূলকভাবে কম আগ্রহ দেখাতে পারে। তবে চীন ঠিক কখন যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়নি।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, মোট পারমাণবিক ওয়ারহেডের মজুতের হিসাবে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, মোতায়েন করা পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনও তার পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার সম্প্রসারণ করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিউ স্টার্টের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে দুই দেশের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা নির্ধারণ এবং যাচাইব্যবস্থার বিধান ছিল। ২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চুক্তিটির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়েছিলেন।
চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন কোনো সমঝোতা না হলে আগের চুক্তির নির্ধারিত সীমা ও যাচাইব্যবস্থা একইভাবে বহাল থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
এ পরিস্থিতিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে বৃহত্তর পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তিন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের আকার, সামরিক কৌশল ও নিরাপত্তাস্বার্থের পার্থক্য একটি অভিন্ন চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তিন দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, কোনো খসড়া চুক্তি, আলোচনার সময়সূচি কিংবা অস্ত্র কমানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, বিশ্বের প্রধান পারমাণবিক শক্তিগুলোর মধ্যে কার্যকর সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ট্রাম্পের ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তব চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান, পারস্পরিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।
The post পারমাণবিক অস্ত্র কমাতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে: ট্রাম্প appeared first on ভোরের চেতনা.
