ঢাকা: বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ রোববার (২৫ অক্টোবর)। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাব্রত সমাপনী উপলক্ষ্যে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ।
বৌদ্ধধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রবারণা পূর্ণিমা পালন ভিক্ষু ও গৃহীদের পাপমোচন এবং আত্মশুদ্ধির পথ সুগম করে। এ উপলক্ষ্যে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, শীল গ্রহণ, প্রদীপপূজা ও ফানুস ওড়ানোসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।
বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় বলেন, ভগবান বুদ্ধ ভিক্ষু ও তার অনুসারীদের ৩ মাস সাধনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুসারে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করেন। এই ব্রত শেষ হওয়ার দিনটিই প্রবারণা পূর্ণিমা হিসেবে উদ্যাপিত হয়।
রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারের আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছে, প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে ভিক্ষুসংঘের তিন মাসের বর্ষাবাসের সমাপ্তি ঘটবে। এরপর আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হবে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে রাজধানীর আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি নিয়েছে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার ভোর সাড়ে ৫টায় সমবেত প্রভাতি বন্দনার মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন শুরু হয়। সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ভিক্ষুসংঘের প্রভাতি পিণ্ড গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ ও অষ্টউপকরণসহ মহাসংঘদান এবং বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিকেল ৪টা ১ মিনিটে পবিত্র ত্রিপিটক থেকে সূত্র পাঠের পর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ‘প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য ও বিশ্ব মানবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা ৬টায় শীল গ্রহণ, আলোকসজ্জা ও ফানুসবাতি উৎসর্গের আয়োজন রয়েছে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ফানুস উৎসব।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও ফানুস উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ দিনটি উদ্যাপন করছেন।
