দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার কক্সবাজার জেলায় ৩২৪ টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন চলছে। এর মধ্যে ১৫৫ টি প্রতিমাপূজার মণ্ডপ এবং ১৬৯ টি ঘটপূজা। আগামী শুক্রবার ষষ্ঠীপুজোর মাধ্যমে শুরু হয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব।
কক্সবাজার জেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, আইনজীবী সংগঠন, ছাত্র প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিশিষ্টজনদের নিয়ে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের ব্রাহ্ম মন্দিরের বিভূতি-ভূষণ সেন মিলনায়তনে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পালের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশ।
সভায় বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, সদস্যসচিব আবুল কাশেম, সদর বিএনপির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার আব্দুল মাবুদ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, শহর জামায়াতের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফারুক, এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার আলম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপংকর বড়ুয়া পিন্টু এবং দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
এ সময় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, জেলা, উপজেলা ও শহর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা এবারের দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং ছুটি এক দিন বাড়ানোর উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সভায় সর্বদলীয় মণ্ডপ মনিটরিং কমিটি গঠন, পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা এবং উৎসব চলাকালে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বক্তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গোৎসবকে আনন্দমুখর ও নির্বিঘ্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, সনাতনীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা শাখার সদস্যরা, ট্রাফিক ও টুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া রয়েছে।
