বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। কমিটিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি অনন্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। একই সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সরকারি বা বিরোধী দলের সংবাদের নির্দিষ্ট আনুপাতিক হার বিবেচনার চেয়ে সংবাদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. আমানউল্লাহ আমান।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংবাদ প্রচারের নীতিমালার বিষয়ে বৈঠকে বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট দিনে বিরোধী দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর থাকলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচার করতে হবে। বিটিভির অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে ‘আর স্বৈরাচার নয়, আসুন সবাই মিলেমিশে কাজ করি’-এমন একটি ইতিবাচক বার্তা যেন জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, দলমত নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও শিক্ষণীয় অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় বিগত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে যাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং যারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের নাম ও পদবিসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়সীমার মধ্যে অন্যায়ভাবে বাতিল করা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও সংসদীয় কমিটিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা।
এদিকে, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন, মো. মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার অংশ নেন।
এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীনস্থ অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাপ্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা গেজেট/এএজে
