নেটওয়ার্কিং, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা, চাকরি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ, রক্তদাতা খোঁজা কিংবা জরুরি সহায়তা—বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসব সেবা একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তথ্য ও গবেষণা বিভাগ।
রাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘RU Campus’ অ্যাপ তৈরির কাজ শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পাওয়ায় এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
গত ৮ অক্টোবর অ্যাপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল গুগল প্লে স্টোর অ্যাকাউন্টে প্রকাশের অনুমতি চেয়ে উপাচার্যের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ অ্যাপটি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
রাকসুর সহকারী তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহের নির্বাচনী ইশতেহারে অ্যাপটি তৈরির প্রতিশ্রুতি ছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। ওই মাসে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সঙ্গে অ্যাপটি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে এপ্রিলে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভায় অ্যাপটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। গত ৭ জুলাই রাকসুর পঞ্চম অধিবেশনেও বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।
অ্যাপটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রক্তদাতা খোঁজা, জরুরি সহায়তা, গবেষণা ও পড়াশোনায় সহযোগিতা, চাকরি ও ইন্টার্নশিপের তথ্য, সিভি তৈরি, ক্যাম্পাস বাসের সময়সূচি, শিক্ষার্থী ডিরেক্টরি এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাস সেবা। পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ব্যবস্থাও থাকছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অ্যাপটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্লে স্টোর অ্যাকাউন্টে প্রকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসে। এ জন্য গত ৮ অক্টোবর উপাচার্যের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়। এর আগে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যস্ততা ও সময় নির্ধারণের জটিলতায় উপাচার্যের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান সিফাত আবু সালেহ। আবেদন জমা দেওয়ার পরও অ্যাপটি প্রকাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
সিফাত আবু সালেহ জানান, অ্যাপ তৈরির ব্যয় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিভাগের বরাদ্দ থেকে মেটানো হচ্ছে। তবে রাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অ্যাপটি সচল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারকে দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিতে হবে। এ জন্য প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের রক্তদান, জরুরি সহায়তা, নেটওয়ার্কিং ও চাকরির সুযোগ এক ছাদের নিচে আনতে “RU Campus” অ্যাপটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আমাদের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি ও অ্যাপ তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক গড়িমসির কারণে এটি আটকে আছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, অনতিবিলম্বে আইসিটি সেন্টারকে দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়ে অ্যাপটি প্লে স্টোরে প্রকাশের অনুমোদন দেওয়া হোক। এতে শিক্ষার্থীরা এই ডিজিটাল সেবার সুবিধা নিতে পারবেন।’
এ বিষয়ে আইসিটি সেন্টারের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক হাসনাত কবির বলেন, অ্যাপটি নিয়ে শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে কথা বলেছেন। উপাচার্যও তাকে রাকসুর সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছেন। তবে অ্যাপটির বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্দেশ দিলে অ্যাপটির রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করবে আইসিটি সেন্টার।
এদিকে, আগামী ২৫ অক্টোবর অ্যাপটির ওয়েব সংস্করণ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রাকসু। তবে ওয়েব সংস্করণ চালু এবং মোবাইল অ্যাপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্লে স্টোর অ্যাকাউন্টে প্রকাশের প্রক্রিয়া আলাদা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
