জন্মদিন মানেই আনন্দ, উৎসব আর শুভেচ্ছায় ভেসে যাওয়া। কিন্তু জনপ্রিয় উপস্থাপক, নির্মাতা ও লেখক হানিফ সংকেতের কাছে দিনটি যেন জীবনের হিসাব মেলানোর উপলক্ষ। বয়স বাড়ার আনন্দের চেয়ে জীবন থেকে আরও একটি বছর চলে যাওয়ার ভাবনাই বেশি নাড়া দেয় তাঁকে। কারণ, এখনো যে অনেক কাজ বাকি!
আজ ২৩ অক্টোবর, ৬৮ বছরে পা দিয়েছেন হানিফ সংকেত। ১৯৫৮ সালের এই দিনে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চার দশকের বেশি সময় ধরে টেলিভিশনের দর্শকদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। আর এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে বড় পরিচয় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’।
জন্মদিন নিয়ে নিজের ভিন্নধর্মী অনুভূতির কথা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন হানিফ সংকেত। তাঁর ভাষায়, জীবন থেকে একটি বছর চলে গেলেও অনেক কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে। তাই জন্মদিন এলেই আনন্দের পাশাপাশি মনে পড়ে সময়ের হিসাব।
চার দশক ধরে দর্শকের ভালোবাসা:
১৯৮৯ সালের মার্চে বাংলাদেশ টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করে ‘ইত্যাদি’। হাস্যরস, ব্যঙ্গ, গান, নাট্যাংশ ও সামাজিক সচেতনতামূলক প্রতিবেদনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি তৈরি করেছে নিজস্ব পরিচয়। সময় বদলেছে, বিনোদনের মাধ্যম বদলেছে, দর্শকের অভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। তবু ‘ইত্যাদি’র প্রতি দর্শকের আগ্রহ ধরে রেখেছেন হানিফ সংকেত।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর পরিকল্পনা, গবেষণা, একাগ্রতা ও মানসম্মত অনুষ্ঠান নির্মাণের চেষ্টা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাধারণ মানুষের অসাধারণ কাজ তুলে ধরেও তিনি অর্জন করেছেন আলাদা পরিচিতি।
জন্মদিনেও বড় আয়োজন নয়, পরিবারের সান্নিধ্য:
জন্মদিনে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের চেয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন হানিফ সংকেত। পরিবারের শুভেচ্ছা, দর্শকের ভালোবাসা ও দোয়া তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ করার সময় ও সামর্থ্য কমে আসতে পারে, এই ভাবনাও তাঁকে তাড়া করে।
স্বীকৃতির পরও থেমে নেই পথচলা:
দীর্ঘ কর্মজীবনে একুশে পদকসহ নানা স্বীকৃতি পেয়েছেন হানিফ সংকেত। ২০২৬ সালে সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। কিন্তু পুরস্কার কিংবা জনপ্রিয়তার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা এবং কাজের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করাকেই বেশি গুরুত্ব দেন এই নির্মাতা।
জন্মদিনে তাই হানিফ সংকেতের গল্প কেবল বয়স বাড়ার নয়; বরং অসমাপ্ত স্বপ্ন, কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আর দর্শকের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের গল্প। যত দিন সামর্থ্য থাকবে এবং দর্শক চাইবেন, তত দিন কাজ করে যেতে চান তিনি।
