লালমনিরহাটের আদিতমারীতে একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ১২ জনকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এবং একজনকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনোয়ারুল, হামিদুল, সিয়াম, সামিউল ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবেলসহ আরও সাতজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম। তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রও লিখিয়ে নিয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলমের পক্ষে অবস্থান নেয়। গত সেপ্টেম্বর থেকে তাঁকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন ও কর্মসূচি পালন করে তারা। এ দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ও ঘেরাও করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বিদ্যালয়ে ফেরার নির্দেশ দেয়।
তবে প্রধান শিক্ষকের পুনর্বহাল নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরোধিতা অব্যাহত ছিল। ওই পক্ষের বাধার কারণে রশিদুল বিদ্যালয়ে যোগ দিতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত তাঁকে মারধর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় বহিরাগতরা। পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে প্রধান শিক্ষকসহ ১৩ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত শিক্ষার্থী মনোয়ারুল ইসলাম বলে, আগে বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝতে না পেরে আমরা প্রধান শিক্ষকের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু পরে তাঁকে ছাড়া বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল বলে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলাম। আজ প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলে ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত আমাদের ওপর হামলা চালায়।
প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পক্ষ আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছিল। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গেলে ৪০ থেকে ৫০ জন আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
