মা হওয়ার অভিজ্ঞতা যেমন আনন্দের, তেমনই সন্তানকে বড় করে তোলার পথে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় অভিভাবকদের। বিশেষ করে সদ্যোজাত শিশুর যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই নতুন মায়েরা বুঝতে পারেন না, কী ভাবে সামলাবেন পরিস্থিতি। এমনই এক কঠিন সময়ে অভিনেত্রী ইশিতা দত্তকে সাহায্য করেছিলেন অভিনেত্রী কাজল। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে সেই কথা জানিয়েছেন ‘দৃশ্যম’ ছবির অভিনেত্রী।
ইশিতা দত্তের ছেলে বায়ু যখন একেবারে ছোট, তখন সে কোলিকের সমস্যায় ভুগত। শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যার কারণে দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি হতে পারে। ছেলের এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না ইশিতা। সেই সময় কাজলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। কাজলের নিজেরও দুই সন্তান রয়েছে, নাইসা ও যুগ। ফলে সন্তানকে বড় করে তোলার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ইশিতাকে একটি পরামর্শ দেন।
কাজল ইশিতাকে বলেছিলেন, শিশুকে প্র্যামে বসিয়ে বাইরে নিয়ে যেতে এবং এমন কোনও জায়গায় নিয়ে যেতে, যেখানে মাটি কিছুটা অসমান বা পাথুরে। সেই পথে প্র্যাম ঠেলে নিয়ে গেলে যে হালকা ঝাঁকুনি তৈরি হবে, তাতে শিশু শান্ত হতে পারে। কাজলের পরামর্শ মেনে দেখেছিলেন ইশিতা। অভিনেত্রীর কথায়, সেই পদ্ধতি সত্যিই কাজে এসেছিল। ছেলেকে সামলানোর ক্ষেত্রে কাজলের দেওয়া এই সহজ পরামর্শ তাঁর উপকারে লেগেছিল।
ইশিতা আরও জানিয়েছেন, শুধু এই একটি বিষয়েই নয়, সন্তানকে বড় করে তোলার পথে বিভিন্ন সময় কাজলের কাছ থেকে নানা পরামর্শ পেয়েছেন তিনি। ছোটখাটো অনেক বিষয়েই কাজলের সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও সব পরামর্শের কথা এখন আর তাঁর মনে নেই, তবে কাজলের সাহায্য যে তাঁর কাজে এসেছে, তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ইশিতার কথায়, কাজল তাঁর দুই সন্তান বায়ু ও বেদাকে খুব ভালবাসেন। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতেও তিনি বেশ স্বচ্ছন্দ।
প্রসঙ্গত, অভিনেতা বৎসল শেঠকে বিয়ে করেছেন ইশিতা দত্ত। তাঁদের দুই সন্তান বায়ু ও বেদা। অন্যদিকে, অজয় দেবগনের স্ত্রী কাজল দুই সন্তানের মা। দীর্ঘদিনের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা থেকে সন্তানদের বড় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব ভাবনাচিন্তা রয়েছে।
সন্তানকে বড় করে তোলার প্রসঙ্গে এর আগেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন কাজল। বিশেষ করে কন্যা নাইসার কৈশোরের সময় তাঁদের সম্পর্কের নানা ওঠাপড়া নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। কাজলের মতে, সেই সময় মা-মেয়ের মধ্যে মতের অমিল এবং তর্কবিতর্ক হত। পরিস্থিতি সামলাতে পরে তিনি মেয়ের সঙ্গে আরও বেশি কথা বলা এবং তার কথা মন দিয়ে শোনার দিকে গুরুত্ব দেন। ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্কের উন্নতি হয়।
ইশিতার অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে মাতৃত্বের এক বাস্তব দিক, সন্তানের বেড়ে ওঠার পথে অন্য অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ অনেক সময় নতুন মায়েদের ভরসা জোগায়। তবে প্রতিটি শিশুর প্রয়োজন আলাদা। কোনও পদ্ধতি প্রয়োগের আগে শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। শিশুর কান্না দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অস্বস্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
