জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়েছে, চীনসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা শিক্ষাবিদ পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
অভিযুক্ত ওই নারী তেলেঙ্গানার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি জম্মুর গান্ধী নগর থানার আওতাধীন এলাকায় বসবাস করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, যাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করছিলেন, তারা শিক্ষাবিদ নন, বরং চীনের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য। এ বিষয়টি বুঝতে না পেরে তিনি অজান্তেই তাদের ফাঁদে পা দেন।
এ ঘটনায় গান্ধী নগর থানায় ২০২৬ সালের ২৯০ নম্বর এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করা হয়েছে। এতে ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৫২ ও ৬১(২) ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ধারায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে–এমন তথ্য সংগ্রহ বা আদান-প্রদানসংক্রান্ত অপরাধের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ ধারায় সুরক্ষিত তথ্যের অননুমোদিত আদান-প্রদান, নিজের কাছে রাখা এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শিক্ষাবিদ পরিচয় দেয়া চীনের কয়েকজন গোয়েন্দা সদস্য ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রকাশের জন্য তারা তাকে কৌশলগত ও সামরিক কার্যক্রমের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ ও লেখা তৈরি করতে বলেন। শুরুতে তারা তাকে পরিবেশ ও ভূরাজনীতিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখতে বলেন। ধীরে ধীরে তাকে প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে লেখার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই নারী অজান্তেই ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ফাঁদে’ পা দেন। যারা শিক্ষাবিদ পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন, তারা আসলে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা গোয়েন্দা সদস্য—এ বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারী গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আসেন। ওই তথ্যে অভিযোগ করা হয়, তিনি গোপনে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত সংবেদনশীল নথি, ছবি ও ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ, নিজের কাছে রাখা এবং অন্যের কাছে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত।
সন্দেহ করা হচ্ছে, এসব তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে পাঠানো হচ্ছিল।
পুলিশের পাওয়া তথ্যে বিশেষভাবে চীন ও অন্যান্য বিদেশি দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ওই কর্মকাণ্ডের কারণে জেনে বা না জেনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
তবে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন থাকায় কথিতভাবে সংগ্রহ করা নথিগুলোর সুনির্দিষ্ট ধরন, সন্দেহভাজন বিদেশি যোগাযোগকারীদের পরিচয় এবং কতটা তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তকারীরা এখন ওই নারী কীভাবে বিদেশি গোয়েন্দা সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছেন।
