গাজীপুরে কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় একটি কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিট কাজ করছে। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল আলম চৌধুরী। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার কারখানার ওই গুদামে হঠাৎ করেই আগুন জ্বলে ওঠে। গোডাউনে মজুদ থাকা বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ও কাঁচামালের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আগুনের লেলিহান শিখা ও প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ায় কারখানাটির আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে আশপাশের ফায়ার স্টেশন থেকে আরও কয়েকটি ইউনিট যোগ দেয়। বর্তমানে মোট ৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগুন যাতে গোডাউন থেকে কারখানার মূল প্লান্ট বা আশপাশের অন্যান্য ভবনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গুরুত্ব দিয়ে ফায়ার ফাইটাররা কাজ করছেন।” তাৎক্ষণিকভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের নির্দিষ্ট কারণ এবং এর ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের পর তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে, বলেন তিনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের আনুষ্ঠানিক খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে তারেক রহমানের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে: অতিরিক্ত প্রেস সচিব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি চান, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বগুড়াও এগিয়ে যাক। বগুড়াকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, যোগাযোগ ও শিল্পের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন। বৃহস্পতিবার বগুড়ার উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমন বলেন, বগুড়াকে কোন অবস্থানে দেখতে চান, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “বগুড়াকে কেমন দেখতে চান, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি পরিকল্পনা রয়েছে।” বাংলাদেশ প্রতিদিনের উদ্যোগে বগুড়ার মমো ইন কনভেনশন সেন্টারে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লতিফুর রহমান একরাম (লতন একরাম)। সভায় বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, শিল্প ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে বেশ কয়েকটি বড় উন্নয়ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এর মধ্যে অন্যতম বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এই রেলসংযোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন, কৃষিপণ্য সরবরাহ এবং শিল্পপণ্যের বাজারজাতকরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়ায় একটি মাল্টিমোডাল বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তুতিও অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ, যাত্রী পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণ এবং নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। যানজট নিরসন ও নগরায়ণকে গতিশীল করতে প্রাথমিক কাজের জন্য ৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৃথক ২ হাজার কোটি টাকার একটি পরিকল্পনার কথাও সভায় তুলে ধরা হয়। তবে এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ব্যয়, অনুমোদিত বরাদ্দ এবং প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা জরুরি। প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের সময়সীমা ও অর্থ ব্যয়ের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। বগুড়ার মাতিডালী থেকে বনানী পর্যন্ত সড়ক ৬০ ফুট প্রশস্ত করার বিষয়ে তারেক রহমানের আগের একটি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন রুমন। তিনি বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের ফলে দোকানপাট, বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের একাংশ আপত্তি জানিয়েছিলেন। রুমনের মতে, তখন জনসাধারণের আরও বেশি সহযোগিতা পাওয়া গেলে সড়কটি ৮০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারত। এতে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া এবং নগরের সম্প্রসারণ সহজ হতো। তাঁর বক্তব্যে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সম্পত্তির অধিকার ও জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার গুরুত্ব উঠে আসে। ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্পে জনমত গ্রহণ, স্বচ্ছ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রুমন গত ১৭ বছরে বগুড়ার উন্নয়নের গতিও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এ সময়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এ ছাড়া প্রয়াত আরাফাত রহমানের উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়ামের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, নির্মাণের পরও স্থাপনাটি প্রত্যাশিত সম্ভাবনা অনুযায়ী কাজে লাগানো যায়নি। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রস্তাবিত আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আধুনিক ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বাড়তে পারে। শিল্পায়নের অংশ হিসেবে একটি বিসিক শিল্পপার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। বগুড়ার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য সংরক্ষণ, প্যাকেজিং এবং হালকা প্রকৌশলশিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। এ জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দক্ষ জনবল, অর্থায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বহুমুখী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ হলে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে যাওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। অন্যদিকে, উপজেলায় আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে এ জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ, রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সভায় বগুড়া পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) এবং বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান গঠিত হলে পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিকল্পিত নগরায়ণে সমন্বয় বাড়তে পারে। ২০২৬ সালে বগুড়া সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ায় নগরবাসীর প্রত্যাশাও বেড়েছে। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত নতুন সিটি করপোরেশনের কাছে সড়ক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, পানি সরবরাহ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বগুড়ার উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রুমন ও মীর শাহে আলম। প্রস্তাবিত রেলপথ, বিমানবন্দর, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, শিল্পপার্ক, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাস্তবায়িত হলে বগুড়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে প্রকল্প অনুমোদন, অর্থায়ন, সময়মতো বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর। উন্নয়নের সুফল যেন শুধু শহরকেন্দ্রিক না থাকে, সে জন্য জেলার গ্রামীণ সড়ক, কৃষিপণ্যের বাজার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৃষিপ্রধান জেলা। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জেলাটিকে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, উন্নয়নের ঘোষণাগুলোকে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপান্তর করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার সুফল পৌঁছে দেওয়া।

মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর করা সেই রুমির বিরুদ্ধে মামলা
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় শাহজালাল রুমি নামের এক অভিভাবক এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনধিকার প্রবেশ, হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে টঙ্গী শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করে। এছাড়া মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের ওপর মারধরের প্রতিবাদে ওই দিন বিকেলে টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে মাদ্রাসার নিজস্ব ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে আসামি করে শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় (উত্যক্তকরণ) মামলা দায়ের করে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার বিষয়ে জানান, প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিশুটির বাবার দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় (উত্যক্তকরণ) মামলা নেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অভিযুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। ওসি আরও জানান, এছাড়া মাদ্রাসায় বহিরাগতদের নিয়ে অনধিকার প্রবেশ, হামলা, ভাঙচুর, নারী শিক্ষকসহ অন্যদের মারধর ও নগদ ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্লাস্টিকের বদলে গাছ, পাকুন্দিয়ায় ব্যতিক্রমী আয়োজন
প্লাস্টিক দূষণ রোধ করি, সবুজ পাকুন্দিয়া গড়ি’— এই প্রত্যয় নিয়ে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি, ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে বৃক্ষ’। সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রয়াস’-এর আয়োজনে শুক্রবার বিকেলে উপজেলা ঈদগাহে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে ৩টি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে দেওয়া হয় ১টি করে গাছের চারা। এ আয়োজনের মাধ্যমে এক দিনেই প্রায় ৭ শতাধিক চারা গাছ পৌঁছে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের হাতে, যা পাকুন্দিয়াকে সবুজায়নের পথে এক ধাপ এগিয়ে দেবে। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন প্রয়াসের আহ্বায়ক নূরুল জান্নাত মান্না। তিনি জানান, অপচনশীল প্লাস্টিক থেকে প্রকৃতিকে মুক্ত করা ও সবুজায়ন বৃদ্ধিই তাদের মূল উদ্দেশ্য। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয় বিশিষ্টজন ও তরুণ প্রতিনিধিরা এই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্লাস্টিক বর্জ্য দূর করে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ছোট্ট প্রয়াসই একদিন পুরো পাকুন্দিয়াকে করে তুলবে সবুজ ও প্রাণবন্ত। তরুণদের এমন দূরদর্শী উদ্যোগই।

অষ্টগ্রামে নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তার কাজ শুরু করলেন বিএনপি নেতা
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার কাজ উদ্বোধন করেছেন দেওঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনসুর আলম চৌধুরী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে দেওঘর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার জহির উদ্দিন খন্দকার (গফুর)'র বাড়ি থেকে আতকাপাড়া, মরহুম জামিন মিয়ার বাড়ির মোকাম হয়ে খাঁহাটি ও ১২ মাস চলাচলি এ রাস্তার কাজ উদ্বোধন করা হয়। এ রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং দৈনন্দিন চলাচল আরও সহজ হবে। দেওঘর ইউনিয়নের তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নেতা ও যুবসমাজের আইকন হিসেবে পরিচিত মনসুর আলম চৌধুরীর এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

