ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ঠিক রাখতে বিভিন্ন স্কুলে ‘উদ্বৃত্ত’ শিক্ষকদের বদলি বা ‘র্যাশনালাইজ়েশন’-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই উদ্দেশ্যে গত জুলাই মাসে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (এসওপি) তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ওই এসওপিতে থাকা বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি ওঠে শিক্ষকদের মধ্যে থেকে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও হয়। অবশেষে আদালতের নির্দেশে সোমবার ওই এসওপি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী প্রতি ৩০ জন পড়ুয়ার জন্য ১ জন করে শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ, রাজ্যের বহু স্কুলেই এই অনুপাত মানা হয় না। গ্রামাঞ্চলে এমনও অনেক স্কুল রয়েছে, যেখানে ব্যাপক শিক্ষক-ঘাটতি পঠনপাঠনে প্রভাব ফেলছে। একই ভাবে, অন্য স্কুলে এক জন পড়ুয়া না থাকলেও, শিক্ষকেরা রয়ে গিয়েছেন। এই ‘সারপ্লাস’ বদলির ফলে সেই সমস্যা মিটবে বলে আশা করেছিল সরকারের।
সে কারণে গত জুলাইতে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় এবং সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে এই বদলি করা হবে। প্রথমে প্রাথমিক স্কুলের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই এই পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি ওঠে। তার জের কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়। অবশেষে আদালতের নির্দেশে সেই এসওপি প্রত্যাহার করে নেওয়া হল।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, আগে থেকেই জানা ছিল যে, এই নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। কারণ যে এসওপি প্রকাশ করা হয়েছিল, কোনও বদলির নিয়মের ক্ষেত্রে তার উল্লেখ নেই। তাহলে সরকার কেন তা করতে গেল, সেটাই বোঝা গেল না। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রবশেখর মণ্ডলের মত, ‘‘সরকারের উচিত ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করা। কারণ এর ফলে শিক্ষক ও অফিসারদের যেমন ভোগান্তি হয়, তেমনই সরকারের ভাবমূর্তিতেও ধাক্কা লাগে। এটা কাঙ্ক্ষিত নয়।’’
এ দিন বিকাশ ভবনের এক কর্তা অবশ্য জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে ওই এসওপি প্রত্যাহার করা হল। কিন্তু ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনে যে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত রয়েছে, পরবর্তী ক্ষেত্রে তা মেনেই পদক্ষেপ করা হবে।
