ছবির ক্যাপশন: .................
নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়-দুর্গোৎসব উপলক্ষে, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালকের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ উপলক্ষে ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ১,৪৬,৪৮৮ জন পুরুষ ও ৬৬,৩৩০ জন নারী সদস্যসহ মোট ২,১২,৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়াদানের জন্য আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি, দক্ষ জনবল এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মাধ্যমে এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, গত দুই বছরে তৃণমূলভিত্তিক সংস্কার, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বাহিনীতে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মমুখী শিক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালু করা হয়েছে কলেজভিত্তিক ভিডিপি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও জননিরাপত্তায় অংশগ্রহণের উপযোগী দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যারা এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাবেন। শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, AVMIS-এর মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ সদস্যের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং STDMS-এর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও মোতায়েন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আধুনিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সদস্যদের ভাতা সরাসরি তাদের নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা কার্যক্রমের তদারকি ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানে ব্যবহৃত ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি জানান, End-User, Responder ও Oversight Panel-ভিত্তিক এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ আরও সহজ ও কার্যকর হচ্ছে। পূজামণ্ডপে নিয়োজিত ভিডিপি সদস্যরা End-User হিসেবে নিরাপত্তার প্রথম সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানে ভূমিকা রাখবেন। অন্যদিকে, Responder হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। পাশাপাশি, Oversight Panel-এর মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, ঘটনা ও দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং গুজব প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও সমস্যা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। বাহিনী প্রধান জানান, দেশের পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোর গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় তিন শ্রেণিতে নিরাপত্তা জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৬ হাজার ৯১৪টি মণ্ডপে প্রতিটিতে ৮ জন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ১১ হাজার ৭৮১টি ও সাধারণ ১৪ হাজার ৪৭০টি মণ্ডপে প্রতিটিতে ৬ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় সারাদেশে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রত্যাশা করে, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এ উৎসবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জননিরাপত্তা রক্ষা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে বাহিনী সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। আজকের সভায় জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহাপরিচালক তিনজন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যকে পুরস্কৃত করেন।মতবিনিময় সভায় বাহিনীর সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
