বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ ও দখল রোধে ফের শুরু হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নদীর দুই তীরের বর্জ্য অপসারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে আজ সোমবার থেকে এ অভিযান শুরু হবে।
অভিযানকালে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের এক কিলোমিটার এলাকায় ঢাকা জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং পুলিশের লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা সমন্বিতভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে। সমন্বিত এই উচ্ছেদ অভিযান চলবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত। এর মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল উদ্ধার করে নাব্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক রিসাইক্লিং ফ্যাক্টরি এবং ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে ডাম্পিং করে নদীর দুই তীর ভরাট ও দখল করা হয়েছে। তা ছাড়া কামরাঙ্গীরচর ও লালবাগ এলাকার গৃহস্থালি বর্জ্য দ্বারা নদী দূষিত হচ্ছে। দখল হয়ে গেছে নদীতীরের বিআইডব্লিউটিএর অনেক জায়গা। এই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এসব এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। এরপর হাইকোর্ট থেকে উল্লিখিত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আজ থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।
বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, এবারের উচ্ছেদ অভিযানে কেবল অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ করা হবে না, সেখানে জমে থাকা বর্জ্যও অপসারণ করা হবে। ঢাকা জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং পুলিশের লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার সমন্বিত এই অভিযান চলবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত। অবৈধ দখলদারদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নদীর দুই তীরে বর্জ্য অপসারণে সমন্বিত উদ্যোগের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে শনিবার সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে নদীর চ্যানেল পরিদর্শন করা হয়। এর আগে গত তিন দিন কামরাঙ্গীরচর, ইসলামবাগ ও লালবাগ এলাকায় নদীর তীরভূমি থেকে ময়লা-আবর্জনা ও ব্যাবসায়িক প্লাস্টিক মালপত্র নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (অর্থ) ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন, বন্দর পরিচালক সাইফুল ইসলাম প্রধান, প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মাহবুব জামিল, লালবাগের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আশ্রাফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।