বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা-২০২৫-এ সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী রোকোনুজ্জামান রায়হান বলেন, আজ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের যে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও তৃপ্তিকর। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুর দিকে প্রতিকূল পরিবেশ, শ্রেণিকক্ষের সংকট ও শিক্ষকস্বল্পতার মধ্য দিয়ে আমাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছিল। তবে আইন বিভাগের শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিবছর সিনিয়রদের বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনা আমাদের স্বপ্ন এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রথমবারেই মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে বিচারক হিসেবে কবুল করেছেন। সবার উচিত শুরু থেকেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে সিলেবাস বিশ্লেষণ করে সাধারণ ও আইন—উভয় অংশে সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা করা। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পড়াশোনার জন্য স্টাডি স্পেস বা জব কর্নারের সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সদস্য হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “সুপারিশপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অকৃত্রিম শুভেচ্ছা। দেশের প্রতি আপনাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় দেশের সব শ্রেণির মানুষের অবদান রয়েছে। আপনারাও সেই বিবেচনায় দায়িত্ব পালন করবেন। সবার ওপরে সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন—এটি বিবেচনায় রেখে বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে দায়িত্ব পালন করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক শিক্ষার্থী আইন অঙ্গনে নিয়োজিত রয়েছেন। আইন বিভাগ একটি বহুমুখী বিভাগ। এর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পেশায় কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছি।”
