আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ভালোবাসা থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং ও কোরিওগ্রাফিকে বেছে নিয়েছেন গোলাম মর্তুজা আলী অর্ণব। গত দশ বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতে কাজ করা এই ডিজাইনার ফিউশন ফ্যাশনের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যকে আধুনিকভাবে তুলে ধরতে চান।
দেশীয় ঐতিহ্য, নান্দনিক রুচি ও আধুনিকতার সমন্বয়ে ফ্যাশন জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন অর্ণব। গত দশ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতে সুনাম ও সম্মানের সঙ্গে কাজ করছেন। ফ্যাশনের প্রতি গভীর অনুরাগ, সৃজনশীলতা এবং দেশীয় বস্ত্রশিল্পের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
অর্ণব জানান, আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ফ্যাশন ও গ্ল্যামার জগতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল বরাবরই। সেই আগ্রহ থেকে তিনি কলকাতার আই.এন.আই.এফ.ডি. থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও এ বিষয়ে ডিপ্লোমা নিয়ে পেশাগতভাবে কাজ শুরু করেন।
নিজের কাজের ধরন সম্পর্কে অর্ণব বলেন, ফিউশনধর্মী ডিজাইনে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর ডিজাইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হ্যান্ডলুম, কারচুপি ও জারদোসির ব্যবহার। কাতান কাপড়ের প্রতি রয়েছে তাঁর আলাদা ভালো লাগা। সুতা থেকে শুরু করে পোশাকের সম্পূর্ণ নকশা ও নির্মাণপ্রক্রিয়ায় তিনি যত্নশীল থাকার চেষ্টা করেন। রং, কাপড় ও ফিনিশিং-প্রতিটি বিষয়কেই তিনি সমান গুরুত্ব দেন।
প্রথম পোশাক তৈরির অভিজ্ঞতা স্মরণ করে অর্ণব জানান, তখন তিনি সার্টিফায়েড ডিজাইনার ছিলেন না। তবে উন্নতমানের কাপড় নির্বাচন ও রঙের সমন্বয়ে তাঁর রুচি প্রশংসিত হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা পরে তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
বাংলাদেশের বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে অর্ণবের পর্যবেক্ষণ, এখন পোশাক নির্বাচনে আরাম ও স্টাইল-দুটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রেতারা। সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি ও চাহিদায় পরিবর্তন আসে, আর সেখান থেকেই তৈরি হয় নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের ক্ষেত্রে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবও বাংলাদেশের পোশাকের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
গ্রীষ্মপ্রধান বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে হালকা রঙ, আরামদায়ক কাপড় ও রুচিশীল নকশাকে জনপ্রিয়তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখেন অর্ণব। তিনি মনে করেন, দেশীয় সংস্কৃতিকে আধুনিকতার সঙ্গে মিশিয়ে উপস্থাপন করাই বাংলাদেশের ফ্যাশনের অন্যতম শক্তি হতে পারে।
দেশীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তবে গুণগত মান নিয়ে আরও সচেতনতা বাড়াতে পারলে এ খাতে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণ করাকে ফ্যাশন ডিজাইনারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন তিনি।
ডিজাইনের অনুকরণ প্রসঙ্গে অর্ণবের মত, অন্যের কাজ থেকে ধারণা নেওয়া স্বাভাবিক হলেও হুবহু নকল করা অনুচিত। টেকসই ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও প্রতিটি ডিজাইনে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
ব্যক্তিগত পছন্দে অর্ণব টি-শার্ট ও জিন্সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে নিজের ডিজাইন করা পাঞ্জাবিই তাঁর বিশেষ পছন্দ। শাড়ির নকশায় এক রঙের সঙ্গে বিভিন্ন রঙের উপকরণের সমন্বয় করতেও ভালোবাসেন তিনি। দেশীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক ফ্যাশনের ভাষায় তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে যেতে চান এই ফ্যাশন ডিজাইনার ও কোরিওগ্রাফার।
বিআলো/শিলি