চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে শহরটির প্রতি তিনজন বাসিন্দার একজনের বয়স হবে ৬০ বছর বা তার বেশি। ফলে আগামী এক দশকে বেইজিং প্রবীণপ্রধান নগরীতে পরিণত হতে যাচ্ছে। চীনের সরকারি সংবাদপত্র বেইজিং ডেইলির এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বেইজিংয়ে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ লাখ ৯০ হাজারে। শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই এখন এই বয়সসীমার অন্তর্ভুক্ত। বার্ধক্যজনিত এই পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৌলিক অবসরভাতার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তবে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি চীনের সামগ্রিক জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় সরকারের উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ২০২২ সাল থেকে দেশটির জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। একই সঙ্গে বাড়ছে প্রবীণদের অনুপাত, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে উৎসাহ দিতে চলতি বছর বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকার।
রয়টার্সের তথ্যমতে, জন্মহার বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগে চলতি বছর চীন সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৮ হাজার কোটি ইউয়ান, যা প্রায় ২ হাজার ৬৯২ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। জনসংখ্যার এই পরিবর্তনের কারণে আগামী বছরগুলোয় কয়েক কোটি মানুষ কর্মজীবন থেকে অবসরে যাবেন। এতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমার পাশাপাশি অবসরভাতা খাতের ওপর চাপ বাড়বে। ইতোমধ্যেই পেনশন খাতের অর্থায়ন নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে চীন সরকার। অর্থনীতিবিদ ও জনসংখ্যাবিদদের আশঙ্কা, শিশু জন্মহার আরও কমতে থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে নতুন পরিবার গঠনের হারও কমে যেতে পারে। এতে পণ্য ও সেবার অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে বেইজিংয়ের প্রবীণ জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি চীনের সামনে বড় এক জনমিতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে। জন্মহার বাড়ানো, প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতির গতি ধরে রাখাÑ এই তিনটি বিষয় সামলানোই আগামী দিনে দেশটির নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠবে।