দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপলক্ষে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। খালি নেই হোটেল, মোটেল বা রিসোর্ট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও অনেকে পর্যটন স্পটে ঘোরার জন্য গাড়ি পাচ্ছেন না। সকালের দিকে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের চাপ কম থাকলেও বেলা বাড়তেই ভিড় বাড়ছে।
সরেজমিনে পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখা যায়, ঘুরতে এসে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের ছবি তোলায় ব্যস্ত অনেক পর্যটক। কেউ আবার মেঘলার স্বচ্ছ হৃদে কায়াকিং করছেন। কেউবা শৈলপ্রপাতের শীতল জলে গা ভিজাচ্ছেন। কেউ কেউ প্রকৃতির নীরবতায় নিমগ্ন হয়ে গান শুনছেন। কেউবা মনের আনন্দে গান গাইছেন।
বান্দরবানের নীলাচলে ঘুরতে আসা সামিয়া জামান বলেন, বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ। তাই বান্দরবানে ঘুরতে এসেছি। অনেক সুন্দর । চারদিকে পাহাড়-পর্বত আর সবুজে ঘেরা।
ঢাকার গাজীপুর থেকে মেঘলায় ঘুরতে আসা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ১২ জন এসেছি। মেঘলায় প্রথম আসলাম। সবুজ পাহাড়ের মাঝখানে হ্রদ। অনেকে সুন্দর। দুদিন থাকব, আরও কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরব।’
আজ সকাল ৮টায় স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য পর্যটকরা ভিড় করেছেন। সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব পর্যটকদের অনেকে দলবদ্ধ হয়ে গাড়ি ভাড়া করছেন। আবার অনেকে ঘণ্টার পর পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন।
চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের সেবায় প্রায় ৪২০টি চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস রয়েছে। প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে বান্দরবানে। খুব সকালেই তিন শতাধিক গাড়ি স্টেশন ছেড়ে গেছে। তবে বেলা ১১টার পর আর কোনো গাড়ি নেই। অনেকে গাড়ি ভাড়ার জন্য এসেছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ অবস্থা থাকবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গত ১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের পূজার ছুটি। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা ১০ দিনের ছুটি চলছে। এ ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

ঢাকার মিরপুর থেকে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে জিপ স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা পাঁচজন। থানচির তিন্দু রেমাক্রী ও কেওক্রাডং যাব। কোনো গাড়ি খালি পাচ্ছি না। স্টেশনে জটলা।
হোটেল হিলটনের ব্যবস্থাপক তপন কান্তি বড়ুয়া বলেন, ২১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত কোনো কক্ষ খালি নেই। আমাদের ৭২টি কক্ষ রয়েছে। অনেকে কোনো কক্ষ খালি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। টানা ছুটির কারণে এ অবস্থা।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, টানা ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকে ভরপুর থাকে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবে। এখানে ৭০টির মতো হোটেল রয়েছে।
জেলা হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন বলেন, জেলা শহর এবং রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ২৫০টি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রত্যেকটা স্পটে পর্যটকরা আসছে। পর্যটকদের আগমন যাতে নির্বিঘ্ন হয়, সেজন্য যাবতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: বান্দরবান
১৭ অক্টোবর ২০২৬
১৬ অক্টোবর ২০২৬
১৬ অক্টোবর ২০২৬
