সাতলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হামলায় আহত আরও একজন
সৈয়দ স্বাধীন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : ১০:২৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
উজিরপুরের সাতলায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা। ছবি- পরিবার থেকে প্রতিনিধির সংগৃহীত।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলায় কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দি সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ সময় মৃত সান্টু হাওলাদারের ছেলে আশিকুল হাওলাদার ও মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে কাওছার হাওলাদারের সঙ্গে ফরিদ মোল্লার ছেলে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাঁদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ঢাকা ও বরিশাল থেকে একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি এলাকায় আসেন। রাত ১০টার দিকে কাওছার ও রাশেদ আমিনের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সেখান থেকে উঠে সড়কের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর কাওছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এ সময় রাশেদ দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। হামলার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে মায়ের দোয়া ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরে তাঁদের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাতলা এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডে তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

