আর ওড়িশা-বেঙ্গালুরু নয়। গোলাপি ১০৮ পদ্মে মায়ের চরণ সাজাতে পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গই বিপুল চাহিদা মিটিয়ে দিচ্ছে। দামও একেবারে নাগালের মধ্যে। তা সে কলকাতার মল্লিকঘাট ফুল বাজার হোক, বা পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া কিংবা পুরুলিয়া। ১৬ থেকে ২০ টাকায় মিলছে এক একটি পদ্ম। যেখানে আগে সপ্তমীর রাতে একটি পদ্মের দাম ৫০ টাকা হয়ে যেত।
এবার পদ্মের বিপুল চাহিদা কীভাবে মেটালো রাজ্য? সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, “এবার সেভাবে বন্যা হয়নি। তাছাড়া যেসব এলাকায় জল জমে থাকার কারণে আমন ধান চাষ হয় না। সেখানে এবার চাষিরা পদ্ম চাষ করেছেন। তাই যেমন গোলাপি পদ্ম বাজারে ব্যাপক হারে দেখা যাচ্ছে। রয়েছে সাধারণ পদ্মও।”
অন্যান্যবার দুর্গাপুজোর সময় পদ্ম জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয় পুজো আয়োজক থেকে গৃহস্থদের। কারণ, পুজোর আগে বরাবর বৃষ্টির কারণে ফুলের দফারফা হয়ে যায়। ফলে বিপুল চাহিদার যোগান দেয় ওড়িশা, বেঙ্গালুরু। কিন্তু এবার পুজোয় পদ্ম বিক্রি করে মুনাফার মুখ দেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের ফুল চাষিরা। বেঙ্গালুরুর পদ্ম মাঝারি সাইজের হলেও গুণগত মান ভালো না থাকায় দ্রুত শুকিয়ে পড়ে। ওড়িশার পদ্ম সাদা রঙের আকৃতিতে ছোট। আর বঙ্গের পদ্ম যেমন গুণগত মান। তেমনই তার গোলাপি রঙা সৌন্দর্য। এই পদ্ম দিয়েই যে মায়ের চরণ সাজাতে চান পুজো আয়োজকরা।
তবে সপ্তমীতে অন্যান্য ফুলের দাম খানিকটা বেশি ছিল মল্লিকঘাট ফুল বাজারে। রজনীগন্ধা-৪০০ টাকা কিলো, ২৪ টি রজনীগন্ধার স্টিকের বান্ডিল ২৫০ টাকা, ১০০ টি গোলাপ-৩৫০ টাকা, ঝুরো গাঁদা ৭০ টাকা কিলো, হলুদ ঝুরো গাঁদা ৯০ টাকা কিলো, তিন ফুট সাইজের লম্বা ২০ টি লাল গাঁদা ফুলের দাম ওঠে ২০০ টাকা। ওই একই সাইজের ২০ টি হলুদ বাসন্তি গাঁদা ফুলের মালা বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়। অপরাজিতা ফুল ১ কিলো ৪৫০ টাকা, দোপাটি ফুল ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
