Ei Samay
Published on
:
2 min read
সুচেতনা
হিলকার্ট রোড ধরে জোরবাংলো হয়ে গুদামধুরা যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই দেখা মেলে টয় ট্রেনের। ১৮৮১-তে যাত্রা শুরু করা হিমালয়ান রেলওয়ের ছোট্ট ট্রেনটি আজও একই রকম মেজাজে পাহাড়ের গা ঘেঁষে ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলেছে। মূলত কিরাত সম্প্রদায়ের মানুষ বহু প্রজন্ম ধরে বাস করছেন গুদামধুরা গ্রামে। দার্জিলিং, সুখিয়াপোখরি বা মিরিক, যে দিক থেকেই আসা হোক, এখানে পথই যেন নিজস্ব ছবি আঁকে। কিছুটা দূরে রুঙডুঙ নদীর উপস্থিতি। নির্জনতাপ্রেমী মানুষদের কাছে যা মনে রাখার মতো এক অভিজ্ঞতা।
রাস্তার দু’ধারে শ্যাওলা ধরা পাথর, সবুজ ফার্ন, ঋজু পাইন আর মেঘের অবাধ যাতায়াত। এখন আবার নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে। যোগাযোগের পরিসর বাড়লেও শেষ কথা বলে প্রকৃতিই। মিনারেল স্প্রিং, সিঞ্চল অভয়ারণ্য বা আশপাশের চা-বাগান, একাধিক জায়গায় সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। সেই অর্থে চা বাগান আর েনই। স্থানীয়দের স্মৃতিতে তার শেষ অধ্যায় লেখা হয়েছে ১৯৫৫-তে। কিন্তু বাগানের জমি পরিত্যক্ত হয়নি। সেখানে ধাপ কেটে আদা, কোয়াশ, বাঁধাকপি, আলুর মতো একাধিক সব্জির চাষ হয়ে থাকে। কৃষিকাজের পাশাপাশি স্থানীয়রা হোমস্টে চালান। ঘরোয়া রান্না, স্থানীয় সব্জির সমাহার, পাহাড়ি আচার ও আন্তরিক আপ্যায়নে স্থানীয়রা সহজেই মনে জায়গা খুঁজে নেন। গুদামধুরার আকর্ষণ আসলে কোনও একটা জায়গায় আটকে নেই। বরং তার পরিবেশ, পাখির ডাক, প্রজাপতির রঙের বাহার আর প্রকৃতি-মানুষের সহজ সহাবস্থান একে আলাদা করে তোলে।
Ei Samay
হাসপাতাল বা উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকলেও এখানে জীবন অভাবের অভিধানে আটকে নেই। রয়েছে গ্রামের বাজার, আড্ডাঘর। গ্রামে সন্ধ্যা নামলে দূরের দার্জিলিং শহরের আলো জ্বলে ওঠে জোনাকির মতো। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এই পুরো এলাকা— লেবং, গুদামধুরা–সংলগ্ন মিনারেল স্প্রিং, মেরিবং, লিঙ্গিয়া, চংটং— শুধু কয়েকটা চা বাগানের নাম ছিল না, বরং দ্রুত বিস্তারমান ঔপনিবেশিক অর্থনীতির অংশ ছিল। পাহাড়ের ঢাল কেটে তৈরি হচ্ছিল বাগান, বাংলো, রাস্তা, কারখানা। সেই ইতিহাসের ভাঁজে লুকিয়ে লুই হিলডেব্র্যান্ড ম্যান্ডলির নাম।
Ei Samay
ইতালিয় বংশোদ্ভূত এই টি-প্ল্যান্টার দার্জিলিংয়ের একাধিক চা বাগানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই ব্যস্ততার মাঝে পাহাড়ের পাখি নিয়েও বিশেষ আগ্রহী ছিলেন তিনি। অবসরে জঙ্গলে বেরিয়ে পাখির নমুনা সংগ্রহ করতেন ও প্রকৃতিবিদ বন্ধুদের সঙ্গে চিঠি বিনিময় করতেন। তঁার সংগ্রহ করা প্রায় পাঁচ হাজার পাখির নমুনা পরবর্তীকালে ইউরোপের কিছু জাদুঘরেও স্থান পেয়েছে।
সব মিলিয়ে অদ্ভুত এক অাবহ গুদামধুরা জুড়ে। সারাদিন গ্রামে ঘোরার পরে ঘরে ফিরে বারান্দা থেকে চোখ যায় নানা পাখির দিকে। কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্র সারিকে সাক্ষী করে এক শান্ত, নিঃসঙ্গ প্রকৃতি। যেন কোনও অসমাপ্ত উপন্যাস হয়ে বেঁচে রয়েছে পাহাড়ের কোলে।
খেয়াল রাখতে হবে
■ মার্চ থেকে মে ও অক্টোবর-নভেম্বর গুদামধুরায় ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময়
■ আবার ডিসেম্বর মানে অর্গ্যানিক কমলালেবুর সমাহার
শান্ত, নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য আদর্শ জায়গা
■ বার্ড-ওয়াচারদের জন্য দারুণ এক জায়গা
■ একাধিক স্থানীয় হোমস্টে রয়েছে
