আন্তর্জাতিক শ্রবণ স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ও গবেষণাপত্র উপস্থাপন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাস্থ্যসেবা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এক নতুন সাফল্যের বার্তা বয়ে এনেছে বাংলাদেশ। ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শ্রবণ স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও সর্ববৃহৎ বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ‘১৬তম কোয়ালিশন অফ গ্লোবাল হিয়ারিং হেলথ কনফারেন্স ২০২৬’-এ গৌরবময় প্রতিনিধিত্ব করেছে দেশ।
স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎসকদের জাতীয় পেশাজীবী সংগঠন ‘সোসাইটি অফ স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টস’ (এসএসএলটি)-এর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক আয়োজনে অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের সকলেই সাভারে অবস্থিত সাভার পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপির) সাবেক শিক্ষার্থী।
তামিলনাডুর চেন্নাইয়ে অবস্থিত বিখ্যাত ‘শ্রী রামচন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’-এর মূল মিলনায়তনে ৯ অক্টোবর থেকে তিন দিনব্যাপী এই বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২৭টি দেশের শ্রবণ ও যোগাযোগ স্বাস্থ্য খাতের খ্যাতনামা গবেষক, চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয় এই আয়োজন। কনফারেন্সের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তামিলনাডু সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ড. দারেজ আহমেদ।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের চিকিৎসা প্র্যাকটিস ও বাস্তবচিত্র সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরে প্রশংসিত হন এসএসএলটির প্রতিনিধি তথা বিশিষ্ট স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট নার্গিস জাহান এবং সাতিয়া মুনতাহা। তারা পৃথক দুটি তাৎপর্যপূর্ণ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। তাদের প্রাঞ্জল ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় বাংলাদেশে শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের অভিভাবকদের মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, পারিবারিক বিশ্বাস, সামাজিক সচেতনতার স্তর এবং বিশেষায়িত বিদ্যালয়গুলোর বর্তমান সেবাকাঠামোর এক প্রামাণ্য চিত্র ফুটে ওঠে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলের অন্য গবেষকবৃন্দ—মো. ওয়াকিল আহাদ, মাসুমা সুরাইয়া, মো. রাকিব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেন রিশাদ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে স্ব-স্ব ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। পাশাপাশি শ্রবণ স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বব্যাপী চলমান নানা অগ্রগতি নিয়ে বিশদ ধারণা লাভ করেন।
বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানান, বিশ্বের ২৭টি দেশের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের এই সরব ভূমিকা বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলে দেশের গবেষক ও চিকিৎসকদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অভিজ্ঞতা দেশের শ্রবণ ও যোগাযোগ স্বাস্থ্যখাতকে বিশ্বমানে উন্নীত করার পাশাপাশি উদীয়মান তরুণ গবেষকদের নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সংগঠনটির (এসএসএলটি) পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পেশাগত সংযোগ এবং বিশ্বমানের গবেষণা চর্চার ধারায় বাংলাদেশে আধুনিক শ্রবণ স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবার পরিধি আগামীতে আরও সুসংহত ও সুদূরপ্রসারী হবে।
