বজ্রপাত রোধ
- আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস।
- বজ্রপাতে এক বছরে ৫১ জনের মৃত্যু।
- বজ্রনিরোধক দণ্ডের খোঁজ রাখেনি কেউ।
- সরকারি উদ্যোগে তালগাছ লাগানো হলেও মেলেনি অস্তিত্ব।
- ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা জানেই না ভুক্তভোগীরা।
- প্রচারণা ও সচেতনতায় জোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
জাহিদ হাসান, যশোর
চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল দুপুর থেকে যশোরে শুরু হয় কালবৈশাখী ও বৃষ্টি। এ সময় চৌগাছা উপজেলার আন্দুলিয়া মাঠে কাজ করছিলেন কৃষক আবু তাহের (৪৫)। বজ্রপাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে মাঠে যান। একপর্যায়ে ধানখেতে তাঁর মরদেহ দেখতে পান তাঁরা। একই সময়ে মনিরামপুরের শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে মারা যান কৃষক লুৎফর রহমান সরদার।
সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর যশোরের কেশবপুর উপজেলার নতুন মূলগ্রামের বিলে মাছ ধরছিলেন জনাব আলী। হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন আকাশে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। বজ্রপাতে তিনি আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, এই তিন কৃষক নন, গত এক বছরে যশোরে বজ্রপাতে মারা গেছেন ৫১ জন। তাঁদের মধ্যে ২৮ জনই কৃষক। একই সময় বজ্রপাতে আহত হন অন্তত ১৫ জন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ দেশব্যাপী পালিত হবে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’। দিবসটি উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।
বজ্রনিরোধক দণ্ড ‘নিখোঁজ’: ২২ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে সরকার বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা যশোরের দুই উপজেলায় তিনটি বজ্রনিরোধক দণ্ড (লাইটনিং অ্যারেস্টার) স্থাপন করে। একটি কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়নের দেউলি গ্রামের বালিয়ার বিলে বসানো হয়, অন্য দুটি ঝিকরগাছার মাগুরা ও গদখালীতে। কিন্তু এগুলো স্থাপনের পর আর কেউ খোঁজ নেয়নি। এখন যন্ত্রগুলো সচল আছে কি না, কেউ জানে না।
তালগাছের অস্তিত্ব নেই: ২০১৮ ও ২০২২ সালে সরকারিভাবে পাঁচ হাজার তালগাছ রোপণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন এসব তালগাছের কোনো অস্তিত্ব নেই। এগুলো রোপণের পর আর কোনো পরিচর্যা করা হয়নি। ফলে এই প্রকল্পের কোনো ফল হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জানেন না কেউ: চলতি বছর মনিরামপুর উপজেলার ডুমুরির বিলে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান হাফিজুর রহমান। বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির পরিবার সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ও আহত ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার সরকারি অনুদান পাওয়ার কথা। তবে হাফিজুরের স্ত্রী তহমিনা জানান, তাঁরা এ ধরনের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জানেন না।
প্রচারণা ও সচেতনতায় জোর: জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আবদুল কাদের বলেন, ‘জেলায় অনেক আগে তিনটি বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানো হলেও সেগুলো কেমন, কীভাবে আছে জানা নেই। আর তালগাছ রোপণ করা হলেও সেগুলোর অস্তিত্ব নেই। কেননা স্থানীয়রা মেরে ফেলে কিংবা গরু-ছাগলে খেয়ে ফেলে। আমরা এখন বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে মূলত প্রচারণা ও সচেতনতা বাড়ানোয় জোর দিচ্ছি।’

